Thursday, July 28, 2016

অ্যাপল, স্যামসাংকে পেছনে ফেলে শীর্ষে অপ্পো


বর্তমানে চীনের বাজারে অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের যৌথ হিসাবে যতটা বাজার দখল হয়েছে, অপ্পোর একার দখলে তার চেয়েও বেশি। গত জুন মাসের হিসাবে এ তথ্য দেখিয়েছে কাউন্টারপয়েন্ট।

২০১৪ সালে চীনের বাজারে অ্যাপল ও শিয়াওমির যে পরিমাণ দখল ছিল, তার চেয়ে ৯ ও ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বাজার দখল কমেছে।

সারাবিশ্বে চীনের বাজারকেই স্মার্টফোনের সবচেয়ে বড় বাজার ধরা হয়। সেই বাজারেই অ্যাপল, স্যামসাং, হুয়াওয়েকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছে অপ্পো।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্টের তথ্য অনুযায়ী, চীনের স্মার্টফোন বাজারে বিক্রির হিসেবে ২৩ শতাংশ দখল করেছে অপ্পো। এক্ষেত্রে অপ্পো আর ৯ ও এফ১ প্লাস স্মার্টফোনই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। আগস্ট ৩ তারিখে অপ্পো এফ১ এস ডিভাইসটি উন্মুক্ত করবে প্রতিষ্ঠানটি। এটি তাদের সেলফি ফোন।

এরপর ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ দখল নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে হুয়াওয়ে আর ১২ শতাংশ দখল নিয়ে তৃতীয় স্থানে ভিভো। গত শনিবার কাউন্টারপয়েন্ট ওই তথ্য প্রকাশ করে।

২০১৫ সালের জুন মাসের তুলনায় এ বছরের জুন মাসে অপোর বাজার দখল বেড়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ।

Thursday, July 7, 2016

> অতি পরিচিত ঘোড়ার অবাক করা কিছু তথ্য

 হাজার হাজার বছর যাবত ঘোড়া মানুষের সঙ্গী হয়ে আছে। ঘোড়াকে সম্ভ্রান্ত জীব বলা হয়ে থাকে। ৪০০০-২০০০ খ্রিষ্টপূর্ব থেকেই ঘোড়া মানুষের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। যেকোন স্থানে পৌঁছে দিতে ঘোড়া মানুষের সহযোগিতা করে আসছে এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রেও। এই একবিংশ শতাব্দীতেও ঘোড়ার কদর কমে যায়নি। তাই চলুন আজ ঘোড়ার কিছু বিস্ময়কর তথ্য জেনে নিই।
-   স্থলজ যেকোন স্তন্যপায়ীর চেয়ে ঘোড়ার চোখ বড় হয়।
-   জন্মের একঘন্টা পরই ঘোড়া দৌড়াতে পারে।
-   এক সময় মনে করা হত ঘোড়া বর্ণান্ধ। কিন্তু আসলে এটি ঠিক নয়। তারা  রক্তবর্ণ বা বেগুনী বর্ণের চেয়ে হলুদ বা সবুজ রঙ ভালো দেখে।
-   ঘোড়ার দাঁত দেখেই স্ত্রী ও পুরুষ ঘোড়া শনাক্ত করা যায়। পুরুষ ঘোড়ার ৪০টি দাঁত থাকে এবং স্ত্রী ঘোড়ার থাকে ৩৬টি।
-   মানুষের চুল ও নখ যে প্রকারের প্রোটিন দিয়ে গঠিত ঘোড়ার খুরও একই ধরণের প্রোটিন দ্বারা গঠিত।
-   যুক্তরাজ্যের লর্ড জর্জ বেন্টিঙ্ক নামক এক ব্যাক্তি তার ৬টি ঘোড়াকে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রথম “দ্যা হর্স ট্রেইলার” বা “হর্স বক্স” উদ্ভাবন করেন।
-   ঘোড়া দাঁড়িয়ে ও শুয়ে উভয়ভাবেই ঘুমাতে পারে।
-   ঘোড়ার চোখগুলো মাথার দুইপাশে অবস্থিত বলে ঘোড়া ৩৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত দেখতে পায়।
-   সত্যিকারের বুনো ঘোড়ার প্রজাতি প্রিজওয়ালস্কির অস্তিত্ব এখনো আছে।  মঙ্গোলিয়াতে পাওয়া যায় এদের। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বন্য ঘোড়া পাওয়া যায় যেমন- মাসটাং পাওয়া যায় উত্তর আমেরিকায়।
-   ঘোড়া তার মেজাজ প্রকাশের জন্য নাক, কান ও চোখ ব্যবহার করে। মুখের অভিব্যক্তির মাধ্যমে তারা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে।
-   অনেকগুলো ঘোড়া একসাথে কখনোই শুয়ে থাকেনা। অন্তত একজন সজাগ থাকবে তার সঙ্গীদের সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য।
-   একটি পূর্ণবয়স্ক ঘোড়ার মস্তিস্কের ওজন ২২ আউন্স হয়।
-   বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ঘোড়ার সম্মানজনক অবস্থান আছে। যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ কীর্তিকলাপের সাথে সম্পৃক্ত আছে ঘোড়া বিশেষ করে চীন দেশে।
-   ঘোড়া বমি করতে পারেনা। কারণ তাদের খাদ্যনালীর স্ফিংক্টার অন্য যেকোন প্রাণীর চেয়ে অধিক শক্তিশালী থাকে।
-   গৃহপালিত ঘোড়ার একটি প্রজাতিই আছে। কিন্তু ৪০০ বিভিন্ন প্রজাতির ঘোড়া আছে যারা গাড়ীটানা থেকে শুরু করে রেসিং পর্যন্ত সব কাজে লাগে।
-   ঘোড়া রাতে মানুষের চেয়ে ভালো দেখে। তবে আলো থেকে অন্ধকারে বা অন্ধকার থেকে আলোতে অ্যাডজাস্ট করতে মানুষের চেয়ে ঘোড়ার বেশি সময় লাগে।
-   ঘোড়া মিষ্টি স্বাদ পছন্দ করে এবং টক বা তিক্তস্বাদ প্রত্যাখ্যান করে।
-   বন্য ঘোড়ারা সাধারণত ৩-২০টির দল করে থাকে। এই দলের নেতৃত্ব দেয় একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ ঘোড়া যাকে স্ট্যালিয়ন বলে। পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী ঘোড়াকে মেয়ার বলে। তরুণ পুরুষ ঘোড়াকে কোল্ট বলে এবং তরুণ স্ত্রী ঘোড়াকে  ফিলি বলে।
-   ঘোড়া একদিনে প্রায় ১০ গ্যালন লালা উৎপাদন করে।
-   ঘোড়ার খুরের নীচের দিকে একটি ত্রিকোণাকার অংশ থাকে যাকে ফ্রগ বলে। এটি ঘাতশোষক হিসেবে কাজ করে এবং রক্ত পাম্প করতে সাহায্য করে।
ঘোড়ার উচ্চতা মাপার একককে হ্যান্ডস বলে। এক হ্যান্ডস সমান ৪ ইঞ্চি।সবচেয়ে দীর্ঘ ঘোড়ার দৈর্ঘ্য ছিল ২১.২ হ্যান্ডস (৭ফুট, ২ইঞ্চি)।
-   ঘোড়ার হৃদপিণ্ডের ওজন ৯/১০ পাউন্ড।   
-   বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন ঘোড়ার প্রথম পূর্বপুরুষ ৫০ মিলিয়ন বছর পূর্বে বেঁচে ছিলো। এই প্রাগৈতিহাসিক ঘোড়াকে ইয়োহিপ্পাস বলে। এদের সামনের পায়ে ৪টি করে প্যাড যুক্ত আঙ্গুল ছিল এবং পেছনের পায়ে তিনটি প্যাড যুক্ত আঙ্গুল ছিলো।  
-   ঘোড়া দৈনিক ২৫ গ্যালন পানি পান করে। গরমের সময় আরো বেশি পান করে।  
-   ঘোড়ার খুর পুনরায় সম্পূর্ণ রূপে জন্মাতে ৯-১২ মাস সময় লাগে।
-   ঘোড়ার প্রতিটা কানে ১৬টি মাংসপেশি থাকে, যার ফলে তারা কানকে ১৮০  ডিগ্রী পর্যন্ত ঘুরাতে পারে।
-   যে ঘোড়ার লেজে লাল রিবন থাকে সেই ঘোড়া লাথি মারে।
-   ঘোড়া সামাজিক প্রাণী তাই একা থাকলে নিঃসঙ্গ অনুভব করে এবং সঙ্গীর মৃত্যুতে শোকগ্রস্থ হয়।
-   ২০১০ সালের এক গবেষণায় জানা যায় যে, ঘোড়া বুদ্ধিমান প্রাণী। বিশেষ করে স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রে। ঘোড়ার সাথে সদয় আচরণ করলে ঘোড়া তা আজীবন মনে রাখে এবং তাকে বন্ধু ভাবে। তারা স্থান চিহ্নিত করতে পারে।
-   অ্যারাবিয়ান ঘোড়াকেই সবচেয়ে সুন্দর ঘোড়া বলা হয়।

> বিশ্বসেরা ২০টি স্মার্টফোনের বিস্তারিত জেনে নিন


বিশ্বসেরা ২০টি স্মার্টফোনের বিস্তারিত জেনে নিন

স্মার্টফোনের জগতটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। এখানে আজকে যে স্মার্টফোনটিকে সেনা বলে মনে হবে, তা পরদিনই সে অবস্থানে নাও থাকতে পারে। তাই আগে যে স্মার্টফোনগুলোকে সেরা হিসেবে গণ্য করা হত, তা এবার নাও হতে পারে। এ লেখায় তুলে ধরা হলো সেরা কয়েকটি স্মার্টফোন। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।
১. আইফোন ৬এস
দারুণ নকশা, সহজ ব্যবহার ও টেকসই উপাদানের সমন্বয়ের কারণে জনপ্রিয় হয়েছে আইফোন ৬ এস। নতুন আইফোন সম্পর্কে অ্যাপলের টিম কুক বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত স্মার্টফোন।’ এই স্মার্টফোনে রয়েছে অ্যাপলের আইওএস ৯ অপারেটিং সিস্টেমে। ফোরকে মানের ভিডিও ধারণ করার জন্য এই ফোনের পেছনে উন্নত আই-সাইট ক্যামেরা যুক্ত করেছে অ্যাপল। ফোরকে ডিসপ্লেতে রেজুলেশন থাকে ৩৮৪০ বাই ২১৬০ যাতে পিক্সেল ঘনত্ব হয় ইঞ্চি প্রতি ৮০৬। গত বছরে বাজারে আসা আইফোন ৬ এ আট মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকলেও নতুন আইফোনের পেছনে ১২ মেগাপিক্সেল ও সামনে পাঁচ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা যুক্ত হয়েছে। লাইভ ফটোজ নামের নতুন একটি ফিচারও যুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আইওএস ৯ এ ফিচার হিসেবে রয়েছে ডিজিটাল সহকারী সিরির উন্নত সংস্করণ। এমনকি এটি ব্যাটারির চার্জ বাড়তি এক ঘণ্টা পর্যন্ত বাঁচাতে পারে। ১৬ জিবি, ৬৪ জিবি ও ১২৮ জিবি এই তিনটি সংস্করণে বাজারে এসেছে নতুন আইফোন। বাজারে এর মূল্য কমপক্ষে ৬৪৯ ডলার।
২. আইফোন ৬এক্স প্লাস
আপনি যদি বিশ্বের সবচেয়ে ভালো ও বড় স্মার্টফোন চান তাহলে এটি ব্যবহার করতে পারেন। স্যামসাংয়ের গালাক্সি নোট এর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও আইফোনের ডিজাইন, হার্ডওয়্যার ও অন্যান্য অ্যাপের কারণে এ ফোনটিকেই সেরা মানছেন অনেকে। এ বছরের আইফোন ৬এস প্লাস আগের তুলনায় গতিশীল। এতে রয়েছে ভালো ক্যামেরা ও উন্নত ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার। পাশাপাশি এতে রয়েছে অ্যাপলের সর্বশেষ প্রযুক্তির প্রেসার-সেনসিং টলজি। মূল্য কমপক্ষে ৭৪৯ ডলার।
৩. আইফোন এসই
চার ইঞ্চি স্ক্রিনের আইফোন এসই এখন অনেকেরই সেরা স্মার্টফোনের তালিকায় স্থান নিয়েছে। এ স্মার্টফোনটিতে রয়েছে অ্যাপলের যাবতীয় অ্যাপ, ইকোসিস্টেম, সাপোর্ট ও সেরা স্মার্টফোনের পারফরমেন্স। এর মূল্য কম হওয়ায় অনেকেই একে দামের তুলনায় সেরা ফোন বলে মনে করছেন। এর ব্যাটারি লাইফ যেমন ভালো তেমন অন্যান্য ফিচারও মন্দ নয়। মূল্য কমপক্ষে ৩৯৯ ডলার।
৪. নেক্সাস ৬পি
গুগল নেক্সাস ৬পি হলো নেক্সাস ৫এক্স-এর সামান্য বড় ভার্সন। গুগলের পক্ষ থেকে এটি তৈরি করেছে হুয়াউয়েই। এটি নেক্সাস ৫এক্স-এর মতোই গুগলের নানা সুযোগ সুবিধা পাবে। যে কারণে স্মার্টফোনটিতে সবার আগে আপডেটেড অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যারের নিখুঁত পারফর্মেন্স পাওয়া যাবে। মূল্য কমপক্ষে ৪৯৯ ডলার।
৫. গুগল নেক্সাস ৫এক্স
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মধ্যে মানসম্মত ও কিছুটা কমদামের ভার্সন খুঁজলে গুগল নেক্সাস ৫এক্স এর তুলনা নেই। এ স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ৫.২ ইঞ্চি স্ক্রিন ও ১২.৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। গুগল দাবি করছে বিশেষ প্রযুক্তির কারণে এ স্মার্টফোনের ছবি অন্যদের থেকে অনেক উন্নত। এতে রয়েছে সম্পূর্ণ অক্ষত অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম, যা এর পারফর্মেন্স উন্নত করবে। এছাড়া অ্যান্ড্রয়েডের যে কোনো আপডেট সবার আগে এ স্মার্টফোন পাবে। মূল্য প্রায় ৩৪৯ ডলার।
৬. স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ এজ
স্যামসাংয়ের সবচেয়ে উন্নত স্মার্টফোন হিসেবে গ্যালাক্সি এস৭ এজকে পরিচিত করিয়েছে গুগল। এটি আগের ভার্সনের তুলনায় বহুদিক দিয়েই উন্নত। স্যামসাং জানিয়েছে সম্পূর্ণ নতুনভাবে স্মার্টফোনটির ডিজাইন করা হয়েছে। এতে রয়েছে ৫.৫ ইঞ্চি স্ক্রিন। মূল্য কমপক্ষে
৬৬৯ ডলার।
৭. স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭
স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি স্মার্টফোনের এ মডেলটিতে রয়েছে সবচেয়ে উন্নত ক্যামেরা। এ স্মার্টফোনের ক্যামেরা এমনকি আইফোন ৬এস প্লাসের চেয়েও উন্নত। এছাড়া এটি অত্যন্ত শক্তিশালী কিছু ফিচার রয়েছে। স্মার্টফোনটি পানিরোধক। এতে রয়েছে মাইক্রোএসডি কার্ড স্লট। এছাড়া আপনি স্যামসাং পে  ব্যবহার করতে পারবেন এর মাধ্যমে। মূল্য কমপক্ষে ৫৬৮ ডলার।
৮. ওয়ানপ্লাস ৩
কমদামে বড় মনিটরের স্মার্টফোন চাইলে ওয়ানপ্লাস ৩ সবচেয়ে ভালো। নতুন মডেলটিতে রয়েছে মেটাল বডি, প্রায় অক্ষত অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম, স্ন্যাপড্রাগন ৮২০ প্রসেসর ও ৬ জিবি র‌্যাম। এতে রয়েছে ৬৪ জিবি স্টোরেজ। মূল্য কমপক্ষে ৪০০ ডলার।
৯. এইচটিসি ১০
এইচটিসি ১০ অত্যন্ত সুন্দর মডেলের দারুণ একটি স্মার্টফোন। এর অপারেটিং সিস্টেমটিও প্রায় অক্ষত অবস্থায় এ স্মার্টফোনে দেওয়া হয়েছে। এ স্মার্টফোনটি আনলক অবস্থায় কেনা যায়। মূল্য কমপক্ষে ৭০০ ডলার।
১০. এলজি জি৫
এলজির সর্বাধুনিক পণ্য জি৫ বাজারে এসেছে। এর বডি সম্পূর্ণ ধাতব। অনেকেই একে স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে সেরা বলছেন। দারুণ ছবি তোলা যায় এতে। এছাড়া এ ফোনটির বটমটি রিমোভেবল হওয়ায় সহজেই ব্যাটারি পরিবর্তন করা যায়। মূল্য কমপক্ষে ৬৫০ ডলার।
১১. স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৫
স্মার্টফোনে বিনোদনের পাশাপাশি জরুরি কাজ করতে চাইলে সেরা ফোন স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৫। বড় স্ক্রিনের এ স্মার্টফোনটিতে রয়েছে অসাধারণ সূক্ষ্ম ডিসপ্লে ও দারুণ ক্যামেরা। এছাড়া এতে রয়েছে স্টাইলাস সংযোজনের অপশন। এ বছরের গ্যালাক্সি নোটের সংস্করণটি আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় উন্নত। যেমন এতে গ্যালাক্সি এস৬-এর সঙ্গে মিল রেখে নানা সুবিধা সংযোজিত হয়েছে। এমনকি ডিসপ্লে বন্ধ রেখেও আপনি তার ওপর লিখতে পারবেন। স্মার্টফোনটির মূল্য কমপক্ষে ৫২০ ডলার।
১২. মটো এক্স পিওর
অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের মানসম্মত ভালো ফোনের একটি হলো মটোরোলা মটো এক্স পিউর। এ স্মার্টফোনটিতে রয়েছে সুপার শার্প কিউএইচডি স্ক্রিন ও ২১ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। পাশাপাশি স্মার্টফোনটিতে রয়েছে অ্যান্ড্রয়েডের সম্পূর্ণ অক্ষত ভার্সন। এতে কোনো বাড়তি অ্যাপ নেই, যা এর পারফর্মেন্সকে বাড়াতে সহায়ক। মূল্য কমপক্ষে ২৯৯.৯৯ ডলার।
১৩. আইফোন সিক্স
কিছুটা পুরনো মডেলের আইফোন সিক্স এখনও বাজারের অন্যতম সেরা ফোন। অ্যাপলের ফ্যানরা এখনো অনেকে নতুন মডেলের ফোন বাদ দিয়ে এ ফোন কিনছেন দামের কারণে। মূল্য কমপক্ষে ৫৪৯ ডলার।
১৪. আইফোন সিক্স প্লাস
আইফোন সিক্স প্লাস এখনও অনেকের বিচারে বাজারে দামের তুলনায় সেরা ফোন। অ্যাপলের বড় পর্দার ফোন হলেও অন্য মডেলের তুলনায় ১০০ ডলার কম মূল্য এ মডেলটির। আর এটি অনেককে আকর্ষণ করছে। মূল্য কমপক্ষে ৬৪৯ ডলার।
১৫. মটো জি৩
মটোরোলার নতুন মডেলের মটো জি একটি অসাধারণ ও কমদামের স্মার্টফোন। কমদামের এ স্মার্টফোনটিতে রয়েছে মানসম্মত ক্যামেরা, পানিরোধী বডি ও বড় পর্দা। এটি অন্য স্মার্টফোনের মতো শক্তিশালী না হলেও দামের দিক দিয়ে অসাধারণ। মূল্য কমপক্ষে ১৬০ ডলার।
১৬. এইচটিসি ওয়ান এ৯
অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো কয়েকটি স্মার্টফোনের কথা বলতে গেলে এ ফোনটির কথা আসবেই। এইচটিসির পুরনো ভার্সনের তুলনায় এটি সামান্য উন্নত। এতে রয়েছে পুরনো আকর্ষণীয় অ্যালুমিনিয়াম ডিজাইন, উন্নত ক্যামেরা ও দ্রুতগতির প্রসেসর। আপনি যদি এইচটিসির অন্য স্মার্টফোন পছন্দ করেন তাহলে সম্ভবত এটিও পছন্দ করবেন। আইফোনের ডিজাইন যাদের পছন্দ কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করতে চান তাদের জন্যও এইচটিসি এ৯ একটি আদর্শ ফোন। মূল্য কমপক্ষে ৪০০ ডলার।
১৭. ব্ল্যাকবেরি প্রিভ
ব্ল্যাকবেরির পুরনো ব্যবহারকারীদের মধ্যে যারা অ্যান্ড্রয়েড ফ্যান তাদের জন্য এ স্মার্টফোনটিই সেরা। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম চালিত ব্ল্যাকবেরির প্রথম ফোন এটি। এ ফোনটিতে রয়েছে স্লাইড আউট কিবোর্ড। আপনি যদি ব্ল্যাকবেরির কিবোর্ড ছাড়াও গুগলের অ্যাপ ব্যবহার করতে চান তাহলে এটি হতে পারে দারুণ একটি স্মার্টফোন। মূল্য কমপক্ষে ৪১৩ ডলার।
১৮. মাইক্রোসফট লুমিয়া ৯৫০
উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে লুমিয়া ৯৫০ নামের একটি উইন্ডোজ ফোন উন্মুক্ত করেছে মাইক্রোসফট। ৫ দশমিক ২ ইঞ্চি মাপের এই ফোনটির ওজন ১৫০ গ্রাম। ৩ জিবি র‍্যামের ফোনটির স্টোরেজ ৩২ জিবি। কোয়ালকমের প্রসেসরযুক্ত ফোনটির পেছনে ২০ ও সামনে ৫ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা রয়েছে। মূল্য কমপক্ষে ৪৪৫ ডলার।
১৯. ব্ল্যাকবেরি ক্ল্যাসিক
স্বতন্ত্র অপারেটিং সিস্টেম ও নিরাপদ বার্তার কারণে ব্ল্যাকবেরিকে অনেকেই পছন্দ করেন। আপনি যদি ব্ল্যাকবেরির ফ্যান হন তাহলে ব্ল্যাকবেরি ক্ল্যাসিক হতে পারে আপনার প্রিয় স্মার্টফোন। এটি ব্যবহারে পুরনো ব্ল্যাকবেরির স্বাদ যেমন পাওয়া যাবে তেমন পরিষ্কার টাচস্ক্রিন ও দারুণ ফিজিক্যাল কিবোর্ডও পাওয়া যাবে। মূল্য কমপক্ষে ৩২৯ ডলার।
২০. ব্ল্যাকবেরি পাসপোর্ট
ব্ল্যাকবেরি পাসপোর্ট অনেকের কাছেই অদ্ভুত আকারের স্মার্টফোন। কিন্তু ব্ল্যাকবেরি ফ্যানরা তাদের প্রিয় বহু বিষয় পাবেন এর মাঝে। এর ফিজিক্যাল কিবোর্ডটি যেমন দারণ তেমন ব্যবহারও সুবিধাজনক। মূল্য কমপক্ষে ৪৫০ ডলার।

Tuesday, March 22, 2016

> শব্দের চেয়ে ৬ গুণ দ্রুতগতিতে চলবে প্লেন!


শব্দের চেয়ে ছয় গুণ দ্রুতগতিতে উড্ডয়নে সক্ষম এমন একটি প্লেন আনার উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছে প্লেনটির নির্মাতা আমেরিকান মহাকাশ, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও উন্নততর প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা প্রতি ঘন্টায় প্রায় ৭৬২ মাইল (১২৩৬ কিমি) বেগে উড়তে সক্ষম একটি মিলিটারি প্লেন নির্মাণ করছেন, যা শব্দের তুলনায় ছয়গুণ এবং কনকর্ডের তুলনায় তিনগুণ দ্রুততর।
এই প্লেনগুলো সাধারণ জেটের মতো বায়ু সংকোচনে ফ্যান ব্লেইডের ব্যবহারের পরিবর্তে প্লেনের সম্মুখগতির ফলে সৃষ্ট ধাক্কায় সংকুচিত বায়ুর মধ্যে জ্বালানী ব্যবহারের মাধ্যমে উড়বে। বিগত বছরগুলোতে এ প্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণার ফসল হিসেবে প্রকল্পটি অচিরেই আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে বলে আশা করছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলীরা।
প্রতিষ্ঠানটির অ্যারেনটিক্স বিভাগের প্রধান অরল্যান্ডো কার্ভালহো বলেন, সম্প্রতি এই অগ্রগতি ‘আরও দ্রুতগতিতে’ হচ্ছে, তবে এক্ষেত্রে উন্নতির আরও অনেক বাকি আছে।
প্রকল্পটির চেয়ারম্যান মেরিলিন হিউসন বলেন, “কম খরচের মধ্যেই যে হাইপারসনিক প্লেন বানানো সম্ভব তা আমরা প্রমাণ করতে যাচ্ছি। আমরা ধারণা করছি এফ-২২ আকারের এমন একটি প্রদর্শনী প্লেন নির্মাণ ও উড্ডয়নে ১ বিলিয়নের কম ব্যয় হবে।”
কনকর্ডের ম্যাক ২ গতিসীমা অতিক্রমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা ছিলো এর নির্মাণসামগ্রী। অন্যদিকে এসআর-৭২ এর ক্ষেত্রে এই প্রতিবন্ধকতা এড়াতে প্লেনটি স্পেইস শাটলের মতোই সিরামিক টাইলস দিয়ে ঢাকা থাকবে, যার ফলে প্লেনটি ম্যাক ৬ গতিসীমায় পৌঁছতে সক্ষম হবে।
এসআর-৭২ নামের এই প্লেন ২০৩০ সাল থেকে চালু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০০৩ সালের ২৩ অক্টোবর শেষবারের মতো উড়েছিল বিশ্বের প্রথম সুপারসনিক যাত্রীবাহী প্লেনগুলো।

> ধূমপান ছাড়তে চান? উপায় জানাচ্ছে নতুন গবেষণা


ধূমপান ছেড়ে দেবেন বলে আপনি কতবার প্রতিজ্ঞা করেছেন আর কতবার প্রতিজ্ঞা ভুলে আবারও ঠোঁটের ডগায় রেখেছেন সিগারেট? ধূমপান যাঁরা করেন তাঁদের মধ্যে অর্ধেক জন মনে করেন একটু একটু করে কমাতে থাকলে তবেই এই অভ্যাস ত্যাগ করা যায়।  আবার আর এক দলের বক্তব্য, ছাড়তে গেলে একবারে এক ঝটকায় ছাড়তে হয়। ধূমপানের এই অভ্যাস নিয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে অ্যানালস অফ ইন্টারনাল মেডিসিনে। প্রায় ৭০০ জন ধূমপায়ীকে চিহ্নিত করেন গবেষকরা।
তাঁদের ভাগ করা হয় দু’টি দলে। একদল যাঁরা একদিনে ধূমপান ত্যাগ করবেন আর অন্যদল যাঁরা একটু একটু করে ধূমপানের মাত্রা কমিয়ে দেবেন।  দেখা গিয়েছে, যাঁরা একদিনে ধূমপান ছেড়েছেন, তাঁদের মধ্যে ফের এই বদঅভ্যাসে ফিরে যাওয়ার হার অপেক্ষাকৃত কম। যাঁরা ৪ সপ্তাহ ধরে একটু একটু করে ধূমপান ত্যাগ করার পণ রেখেছিলেন, তাঁদের তুলনায় অনেকটাই সফল এক ঝটকায় ধূমপানত্যাগীরা।
তবে ধূমপান ছাড়লে শরীরে যে প্রভাব পড়তে পারে, সেই কথা মাথায় রেখে সমীক্ষার অন্তর্ভুক্ত সবাইকেই প্রয়োজনীয় মেডিকেশন দেওয়া হয়েছিল।  শেষ পর্যন্ত গবেষণার এইটিই সিদ্ধান্ত যে ধূমপান ছাড়তে হলে মনের জোর নিয়ে একবারে ছেড়ে দেওয়ার পণ নেওয়াই ভাল। তবে যাঁরা অতিরিক্ত ধূমপান করেন তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এর পাশাপাশি কিছু মেডিসিন নেওয়া প্রয়োজন যাতে ‘উইথড্রয়াল’ না হয়।

> বিনা পয়সার যে খাবারটি আজীবন যৌবন ধরে রাখে ও নতুন চুল গজায়, দেখে নিন কিভাবে খাবেন…

সমস্যা সমাধান ও রোগ নিরাময়ের জন্য আমরা কত কিনা করি। চিকিৎসা করতে গিয়ে বেশ ক্ষতি ডেকে আনি নিজেদের জন্যই। কষ্ট লাঘবে তখন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টা মাথায় থাকে না। বিশেষ করে টাইফয়েড জ্বর, ডায়রিয়া, কলেরার মতো পেটের রোগে অ্যান্টিবায়োটিকও চলে আকছার।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত ওই সব ওষুধগুলির দামও অনেক সময় নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে হয়ে যায়। অথচ আমাদের হাতের কাছেই কিছু ভেষজ গাছ রয়েছে, যেগুলি অত্যন্ত অল্প দামে বা একটু খুঁজলে বিনামূল্যেও পাওয়া যায়, আমরা জানি না। অনেক সময় জেনেও, বিশ্বাস হয় না। তেমনই একটি ভেষজ উদ্ভিদ হল থানকুনি।
থানকুনি আমাদের অতিপরিচিত পাতা। পুকুরপাড় বা জলাশয়ে হামেশাই দেখা মেলে। কথায় বলে, পেট ভালো থাকলে মনও ফুরফুরে থাকে। চিকিত্‍সকরাই বলছেন, থানকুনি পাতার এমন ভেষজ গুণ রয়েছে, মিয়মিত খেতে পারলে, পেটের অসুখে কোনও দিনও ভুগতে হবে না। শরীর-স্বাস্থ্য তো সতেজ থাকেই, ছোট থেকে খাওয়াতে পারলে বুদ্ধিরও বিকাশ হয়। দেখে নেওয়া যাক, যৌবন ধরে রাখতে ও সুস্থ থাকতে থানকুনি পাতার ভেষজ গুণগুলি।
১. পেটের রোগ নির্মূল করতে থানকুনির বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলে যে কোনও পেটের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একই সঙ্গে পেট নিয়ে কোনও দিনও সমস্যায় ভুগতে হয় না।
২. শুধু পেটই নয়, আলসার, এগজিমা, হাঁপানি-সহ নানা চর্মরোগ সেরে যায় থানকুনি পাতা খেলে। ত্বকেও জেল্লা বাড়ে।
৩. থানকুনি পাতায় থাকে Bacoside A ও B। Bacoside B মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য করে ও রক্ত চলাচল বাড়ায়। থানকুনি পাতা নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
৪. থানকুনি স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
৫. মৃতকোষের ফলে চামড়ায় অনেক সময়ই শুষ্ক ছাল ওঠে। রুক্ষ হয়ে যায়। থানকুনি পাতার রস মৃতকোষগুলিকে পুনর্গঠন করে ত্বক মসৃণ করে দেয়।
৬. পুরনো ক্ষত কোনও ওষুধেই না সারলে, থানকুনি পাতা সিদ্ধ করে তার জল লাগালে সেরে যায়। সদ্য ক্ষতে থানকুনি পাতা বেটে লাগালে, ক্ষত নিরাময় হয়ে যায়।
৭. থানকুনি পাতা চুল পড়া আটকে দেয়। এমনকি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।
৮. বয়স বাড়লেও, যৌবন ধরে রেখে দেয় থানকুনি পাতার রস। প্রতিদিন একগ্লাস দুধে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে খেলে, চেহারায় লাবণ্য চলে আসে। আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়।
৯. দাঁতের রোগ সারাতেও থানকুনির জুড়ি মেলা ভার। মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে বা দাঁতে ব্যথা করলে একটা বড় বাটিতে থানকুনি
পাতা সিদ্ধ করে, তারপর ছেঁকে নিয়ে সেই জল দিয়ে কুলকুচি করলে উপকার পাওয়া যায় চটজলদি।

Wednesday, March 9, 2016

এখন থেকে আপনার মোবাইল এসএমএসে চলবে টিভি, ফ্যান, ফ্রিজ, সেচ পাম্প (ইবি শিক্ষার্থীর আবিষ্কার)

বৈদ্যুতিক বাতি, ফ্যান, ফ্রিজ, এসি, সেচ পাম্পসহ সব ধরনের ইলেক্ট্রনিক্স ও ইলেক্ট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি এখন নিয়ন্ত্রণ করা যাবে মোবাইলে এসএমএস করে। এমন একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিজ্ঞান, ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মাহাবুল হাসান। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার শ্যামপুরে, পিতার নাম মো: মওলা বকস। মাহাবুল বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। এই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খলিলুর রহমান স্যারের তত্ত্বাবধানে ছয় মাস গবেষণা করে এই যন্ত্রটি আবিষ্কার করেছেন তিনি। এর দ্বারা যন্ত্রের কাছে না থেকেও একই সাথে একাধিক যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এই যন্ত্রের সাথে একটি সিম কার্ড রয়েছে। ওই সিমে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে পরিচালকের ইচ্ছা অনুযায়ী দিক নির্দেশনা লিখে এসএমএস পাঠালে যন্ত্রটি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে। ফ্যান অফ করতে চাইলে “অফ” লিখে এসএমএস করতে হবে। অনুরুপভাবে অন করতে চাইলে “অন” লিখে এসএমএস করলেই ফ্যান ঘুরতে থাকবে। এসএমএস পাঠানোর পর যন্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরতি এসএমএসে পরিচালককে ফলাফল জানাবে। অর্থাৎ অফ হলে ফিরতি এসএমএসে “ফ্যান অফ” হয়েছে বলে পরিচালককে জানাবে। আবিষ্কারক মাহাবুল হাসান বলেন, আমি যখন ছোট ছিলাম তখন দেখতাম আমার দাদা শীতের সকালে ফসলের জমিতে পানি সেচ দিতে যেতেন। তখন থেকেই ভাবতাম সেচ মেশিনটা যদি বাড়িতে বসেই চালু-বন্ধ করা যেত। স্নাতক শেষ বর্ষের প্রজেক্টে আমি বিষয়টি নিয়ে কাজ করে সফলতা পেয়েছি। আবিষ্কৃত যন্ত্রটি নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন ইবি শিক্ষার্থী মাহাবুল। এর আগে একই বিভাগের শিক্ষার্থী শামিম হোসেন রোবট আবিষ্কার করেছিলেন। মাহাবুলের তত্ত্বাবধায়ক প্রফেসর ড. খলিলুর রহমান বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা খুবই সম্ভাবনাময়ী। তবে দু:খজনক হলেও সত্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে গবেষণায় এক টাকাও বরাদ্দ দেয়া হয় না। আবিষ্কারের নেশায় শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্দ্যোগে গবেষণা করছে। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীরা আবিষ্কার বিমুখ হয়ে পড়বে। আগামী দিনে আবিষ্কারের এই ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।n.b:collected

> সপ্তাহে মাত্র একবার করুন এই কাজটি আর সুন্দরী থাকুন আজীবন

এই ব্যস্ত জীবনে কার এত সময় আছে ত্বকের যত্নে ব্যয় করার? কিন্তু তারপরও আমরা সবাই চাই ব্রণহীন, উজ্জ্বল, মসৃণ ও ফর্সা ত্বক। হ্যাঁ, আপনি চাইলেও কিন্তু পেতে পারেন তা। না, পার্লারে যেতে হবে না। কিনতে হবে না দামী দামী প্রসাধনীও। তাহলে উপায়?
খুবই সহজলভ্য উপাদানে তৈরি এই ফেসমাস্কটি সপ্তাহে মাত্র একবার ব্যবহার করুন, আর তাতেই আপনার ত্বকের সমস্ত সমস্যা দূরীভূত হয়ে সৌন্দর্য থাকবে অটুট। ত্বকের বাড়তি তেল কমে যাবে, ব্রণ ও ব্ল্যাকহেডসের থাকবে না, কালো দাগছোপ মিলিয়ে যাবে, ত্বক হয়ে উঠবে নরম ও মসৃণ। যে কোন রকমের ত্বকে বা যে কোন বয়সের ত্বকেই কাজ করবে এই ফেসমাস্কটি। আর সময় লাগবে মাত্র ১০ মিনিট। কী করবেন? চলুন জেনে নিই।
যা লাগবে
১ চা চামচ অলিভ অয়েল
১/২ চা চামচ খাঁটি মধু
১ চা চামচ বেকিং সোডা (বেকিং পাউডার নয়, সোডা। যে কোন সুপার শপে কিনতে পাবেন)

যা করবেন

  • -প্রথমে মুখ খুব ভালো ভাবে পরিষ্কার করে নিন।
  • – এরপর সমস্ত উপাদান ভালো করে মিশিয়ে একটা মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন।
  • -এই পেস্ট পরিষ্কার ত্বকে মাখুন। তারপর ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন।
  • -১০ মিনিট পর উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • -প্রত্যেক সপ্তাহে মাত্র একবার ব্যবহার করলেই আপনার ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল, সমস্যাবিহীন ও একেবারেই দাগছোপ মুক্ত।

কীভাবে কাজ করে?

এই মাস্কের মূল উপাদান মধু যা ত্বকে ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ দূর করার মাধ্যমে ব্রণ কমায়। এছাড়াও রোমকূপ সংকুচিত করে ফলে ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা দূর হয়। এছাড়াও মধু ত্বককে টানটান ও সজীব করে তোলে। এছাড়াও এতে আছে অলিভ অয়েল যা ত্বককে পুষ্টি যোগায়। আছে বেকিং সোডা, যা ত্বকের মরা কোষ কয়েক মিনিটের মাঝেই দূর করে দেয় এবং ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।N.B:COLLECTED

১২ টাকার ওষুধে ডায়াবেটিস নির্মূল

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এমন ওষুধ তৈরি করছে ডেনমার্কের কোম্পানি নভো নরডিস্ক। তবে রোগের ধরনের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ধরনের ওষুধও তৈরি করছে কোম্পানিটি।বুধবার ডেইলি স্টার ভবনে নভো নরডিস্ক আয়োজিত ‘করপোরেট সাসটেইনেবিলিটি থ্রো ট্রিপল বোটম লাইন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে নভো নরডিস্ক কোম্পানির ভাইস পেসিডেন্ট শুসানি স্টোরমার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘রোগের ওপর নির্ভর করে আমরা ১২ টাকা থেকে ২ হাজার ৪৯০ টাকা পর্রন্ত মূল্যের ডায়াবেটিস ওষুধ বাংলাদেশে বাজারজাত করছি। আমরা শুধু ব্যবসা করছি না, মানবসেবাও করছি। ব্যবসায় ক্ষেত্রে আমরা অর্থনৈতিক ,সামাজিক ও পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দেই। ফলে আমাদের কোম্পানিটি ব্যবসায় দীর্ঘ মেয়াদি সফলতা পাচ্ছে। ব্যবসার জন্য এ তিনটি জিনিস খুবই জরুরি। আমরা বিশ্বাস করি ব্যবসার ক্ষেত্রে এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিলে দীর্ঘ মেয়াদে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। আর এ কারনে একাধিক টেকসই কোম্পানিগুলোর মধ্যে আমাদের কোম্পানিটি অন্যতম। আমরা সব ধরনের ডায়াবেটিকস রোগীদের জন্য ওষুধ তৈরি করি।’


তিনি জানান, আগামী এপ্রিলে রাইজুডেগ নামে আধুনিক ইনসুলিন বাংলাদেশে বাজারজাত শুরু করবে নভো নরডিস্ক। এটি মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই রাখা হবে।
উল্লেখ্য, প্রতি ৭ সেকেন্ডে বিশ্বে এক জন ডায়াবেটিস রোগী মারা যায়। বাংলাদেশে ২০১৪ সালে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৯ লাখ। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের তথ্যমতে, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে এমন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হবে। বিশ্বে বর্তমানে ৩৮৭ মিলিয়ন মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এই সংখ্যা বেড়ে ২০৩৫ সালের ৫৯২ মিলিয়নে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন।
অলস জীবনযাত্রা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবে শহরে বসবাসকারী মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এ জন্য গ্রামের চেয়ে শহরের মানুষের ডায়াবেটিস বেশি হয়।
প্রসঙ্গত, নভো নরডিস্ক ৯০ বছর ধরে ডায়াবেটিস রোগীদের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ছাড়াও কোম্পানিটিতে বিশ্বের ৭৫টি দেশে ৪১ হাজার ৪৫০ জন ‍লোক কাজ করছে। এছাড়া ১৮০টি দেশে কোম্পানির উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত হচ্ছে।n.b: collected.

Friday, February 12, 2016

> কিডনি নস্ট হবার লক্ষণগুলো কী কী


কিডনির প্রাথমিক রোগে বা অন্য কোনো কারণে কিডনি আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর ধরে যদি দুটো কিডনিরই কার্যকারিতা নষ্ট হতে থাকে তখন তাকে ক্রনিক বা ধীরগতিতে কিডনি ফেইলুর (Kidney Failure) বলা হয়। একটি কিডনি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলে এবং অপরটির কার্যকারিতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলেও সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। দুটো কিডনিরই শতকরা ৫০ ভাগ বিনষ্ট হলেও শরীর সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকে, যার ফলে একজন সুস্থ মানুষ (কিডনি ডোনার – Kidney Donor) তার নিকট আত্মীয় বা অন্য আর একজন কিডনি বিকল রোগীকে (কিডনি গ্রহণকারী) একটি কিডনি দান করেও সুস্থ থাকেন, স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। কেবল দুটো কিডনির ৫০ ভাগের উপর নষ্ট হলেই কিডনি বিকল হওয়ার প্রবণতা শুরু হয় এবং ৭৫ ভাগ নষ্ট হলেই শরীরের লক্ষণগুলো ধরা যেতে পারে আর ৯৫ ভাগের উপর নষ্ট হলে কৃত্রিম উপায়ে (ডায়ালাইসিস বা কিডনি সংযোজন) ছাড়া রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয় না, যাকে বলে এন্ড স্টেজ রেলাল ফেইল্যুর (End Stage Renal Failure)।
Kidney Fail

কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণ

১. গ্লোমেরুলো নেফ্রাইটিস বা কিডনির ছাকনি প্রদাহ রোগ ৫০-৫৫%।
২. ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ ১৫-২০%।
৩. উচ্চ রক্তচাপজনিত কিডনি রোগ ১০-১৫%।
৪. কিডনি বা প্রস্রাবের রাস্তায় পাথর ও অন্য কোনো কারণে বাধাজনিত রোগ ৭-১৯%।
৫. কিডনি বা প্রস্রাবের রাস্তায় জীবাণুজনিত রোগ ৫-৭%।
৬. বংশানুক্রমিক কিডনি রোগ ৩-৫%।
৭. ওষুধজনিত কিডনি রোগ ৩-৫%।
৮. অন্যান্য ও অজানা।

কিডনি নস্ট হবার উপসর্গ

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুটো কিডনির শতকরা পঁচাত্তর ভাগ কার্যকারিতা নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কিডনি বিকলের উপসর্গ দেখা যায় না। রোগী প্রাথমিক পর্যায়ে সামান্য ধরনের কিডনি রোগ থাকার দরুন গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে না। শতকরা ৭৫ ভাগের উপর কিডনি অকেজো হয়ে গেলে রোগীর ক্ষুধা মন্দা, আহারে অনীহা, বমি বমি ভাগ, বমি হওয়া, শরীর ক্রমান্বয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, শারীরিক দুর্বলতা প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়। এছাড়াও প্রস্রাবের পরিমাণের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, রাতে প্রস্রাব করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। কোনো রকম চর্মরোগের উপসর্গ ছাড়াই শরীর চুলকায়, যখন তখন হেচকি ওঠে এবং অনেক ক্ষেত্রে খিঁচুনি হতে পারে। রোগী শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেলে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট, তীব্র গতিতে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস, ঝিমানো ভাব, এমনকি এক পর্যায়ে রোগী জ্ঞানও হারিয়ে ফেলতে পারে।
রোগীকে পরীক্ষা করে রক্তের স্বল্পতা বোঝা যায়। অধিকাংশ রোগীর উচ্চরক্তচাপ (Hypertention) ধরা পড়ে। এছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীর কারণ সাপেক্ষে শরীরে পানি দেখা যেতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে চামড়া শুকিয়ে যেতে পারে। কিছু কিছু রোগীর হৃিপণ্ডের আবরণে পানি এবং হার্ট ফেইলুরের চিহ্ন দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে শরীরের এমন কি হাত-পায়ের মাংসপেশী শুকিয়ে যায় যার দরুন রোগী সাধারণত চলাফেরার শক্তি হারিয়ে ফেলে।

কিডনি নস্ট রোগ নির্ণয়

ক্রনিক রেনাল ফেইলুর (Chronic Renal Failure) রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীর উপসর্গের ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াও প্রাথমিকভাবে রক্তের ইউরিয়া (Serum Urea), ক্রিয়েটেনিন (Serum Creatinin) এবং ইলেকট্রোলাইট (Electrolyres)পরীক্ষা করা হয়। কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তের ইউরিয়া, ক্রিয়েটেনিন বেড়ে যায়। পটাশিয়ামের পরিমাণ বাড়তে থাকে ও বাইকার্বোনেট কমে যায়। এছাড়াও ফসফেট শরীরে জমতে শুরু করে, যার ফলে ক্যালসিয়াম কমে যেতে বাধ্য হয় এবং অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও শুরু হতে থাকে। এরপরে কি কারণে ধীরগতিতে কিডনি বিকল হয়েছে তা বের করার জন্য প্রস্রাব পরীক্ষা করে এ্যালবুমিন (Albumin) আছে কিনা তা দেখা হয় এবং লোহিত ও শ্বেত কণিকা আছে কিনা তাও দেখে নেয়া হয়। প্রয়োজনের ২৪ ঘণ্টার প্রস্রাবের প্রোটিনের পরিমাণও দেখা হয়। প্রস্রাবে এ্যালবুমিন ২৪ ঘণ্টায় এক গ্রামের বেশি হলে প্রাথমিকভাবে কিডনি ফেইলুরের কারণ হিসেবে গ্লোমারুলোনেফ্রাইটিস ধরে নেয়া হয়।
কিডনির গঠন প্রণালী দেখার জন্য আলট্রাসনোগ্রাম এবং পেটের প্লেইন এক্স-রে করা হয়ে থাকে। কিডনির কার্যকারিতা শেষ পর্যায়ে গেলে দুটো কিডনির আকৃতি স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হয়ে যায়। যার কারণ গ্রোমারুলোনেফ্রাইটিস বা জীবাণুজনিত বলে মনে করা হয়। কিডনির আকৃতি ছোট না হয়ে যদি বড় হয়ে যায় এবং ভেতরের ক্যালিসেস বা শাখা-প্রশাখা নালীসমূহ ফুলে যায় তাহলে অবস্ট্রাকটিভ ইউরোপ্যাথিকে কিডনি বিকলের কারণ হিসেবে ধরা হয়। দুটো কিডনিতে যদি অনেকগুলো সিস্ট থাকে তাহলে বংশানুক্রমিক কিডনি রোগ বা পলিসিসটিক কিডনি ডিজিজ (Polycystic Kidney Disease) ভাবা হয়। এছাড়া পাথরজনিত কারণে বা প্রোস্টেটজনিত জটিলতায় কিডনি বিকল হলো কিনা তাও আলট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রের মাধ্যমে ধরা যেতে পারে।
উল্লিখিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াও কিডনি বিকল রোগীদের হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস, সি-ভাইরাস, এইডস (AIDS) ভাইরাস আছে কিনা তাও দেখা প্রয়োজন। বুকের এক্স-রে, ইসিজি রক্তের হিমোগ্লোবিন, ব্লাড গ্রুপ, এইচএলএ টিস্যু এন্টিজেন এসব পরীক্ষাও বিশেষ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়।

কিডনি নস্ট হবার চিকিত্সা ও প্রতিকার

কিডনি অকেজো রোগীর চিকিত্সা নির্ভর করে কি কারণে এবং কত পরিমাণে কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট হয়েছে তার উপর। কেননা এমন অনেক কারণ রয়েছে যেগুলোকে আমরা সঠিক চিকিত্সার মাধ্যমে ভালো করে দিতে পারি, যেমন বাধাজনিত কিডনি রোগ। আবার কিছু কারণ আছে ভালো করা না গেলেও কিডনি আরো বেশি অকেজো না হয়ে যায় তার ব্যবস্থা নিতে পারি, যেমন উচ্চরক্তচাপ। অবশ্য যে কোনো কারণেই হোক না কেন দুটো কিডনির শতকরা ৯৫ ভাগের উপরে যদি নষ্ট হয়ে যায় তখন কোনোভাবেই কিডনির কার্যকারিতা ফেরানো সম্ভব হয় না। আর এসব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন পড়ে ডায়ালাইসিস বা কিডনি সংযোজনের মাধ্যমে চিকিত্সার ব্যবস্থা করা। উল্লেখিত দু ধরনের চিকিত্সাই অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্যই প্রয়োজন সঠিক সময়ে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের মাধ্যমে কিডনি রোগের চিকিত্সা করানো। এর জন্য প্রয়োজন কিডনি রোগ সম্পর্কে সমাজ সচেতনতা, প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করা ও চিকিত্সা সেবার মান বৃদ্ধি করা। কেননা প্রতি বছর আমাদের দেশে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কিডনি রোগী কিডনি অকেজো হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। এদের বাঁচাবার জন্য চাই চিকিত্সার সুযোগ-সুবিধা।
শুধু সরকারি পর্যায়ে এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা সম্ভব নয়। তাই এগিয়ে আসতে হবে বেসরকারি উদ্যোক্তাকে ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিবর্গকে। তৈরি করতে হবে অত্যাধুনিক ডায়ালাইসিস এবং কিডনি সংযোজনের ব্যবস্থা। আর কিডনি সংযোজনের জন্য নিকট আত্মীয়দের মধ্য থেকে ডোনার হিসেবে এগিয়ে আসতে হবে। কেননা দুটো সুস্থ কিডনির মধ্যে একটা নিকট অসুস্থ কিডনি রোগীকে দান করলেও স্বাভাবিক সুস্থ জীবন-যাপন করা যায় এবং সেক্ষেত্রে সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি পায়। তাহলেই হাজার হাজার কিডনি বিকল রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

> Liver পরিষ্কার রাখতে যা খাবেন

Liver আমাদের দেহের দ্বিতীয় বৃহত্তম অঙ্গ এবং আমাদের স্বাস্থ্যগত কোন সমস্যা সৃষ্টি না হলে আমরা একে নিয়ে কোন চিন্তাই করিনা। Liver প্রায়ই আমাদের শরীরের দ্বাররক্ষী হিসেবে কাজ করে। একজন হাউজ কিপারের মতোই আমাদের শরীরে যা কিছু ঢুকছে তা পরিষ্কার করা এবং শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সহযোগিতা করে লিভার। আমাদেরকে সুস্থ রাখার জন্য কাজ করে যে লিভার তাকে সুস্থ রাখাটা প্রয়োজনীয়। আসুন তাহলে জেনে নেই এমন কিছু খাবারের কথা, যেগুলো খেলে লিভার সুস্থ থাকার পাশাপাশি আমাদের সার্বিক স্বাস্থ্য ও ভালো থাকবে।

Liver পরিষ্কার রাখতে যা খাবেন

 
Liver Cleanse
Liver Cleanse 

রসুন
রসুন অত্যন্ত কার্যকরী লিভার পরিষ্কারক যার মধ্যে প্রচুর এনজাইম থাকে এবং এই এনজাইম লিভার থেকে টক্সিন বাহির হতে সাহায্য। এছাড়াও রসুনে সেলেনিয়াম ও এলিসিন নামক উপাদান থাকে এবং এরাও লিভার থেকে টক্সিন বাহির হতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।                         
 
জাম্বুরা
জাম্বুরাতে উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা লিভারের ন্যাচারাল ক্লিঞ্জিং প্রসেসকে বৃদ্ধি করে। ছোট সাইজের এক গ্লাস জাম্বুরার জুস লিভারের ডিটক্সিফিকেশন এনজাইমের উৎপাদন বৃদ্ধি করে যা কার্সিনোজেন এবং অন্যান্য টক্সিনকে পরিপূর্ণ ভাবে বাহির হয়ে যেতে সাহায্য করে।
বিট ও গাজর
গাজর গ্লুটাথায়ন নামক প্রোটিনে সমৃদ্ধ যা লিভারকে বিষ মুক্ত হতে সাহায্য করে। গাজর ও বিট উভয়ের মধ্যেই উচ্চমাত্রার উদ্ভিজ ফ্লেভনয়েড ও বিটা ক্যারোটিন থাকে। বিট ও গাজর খেলে লিভারের কার্যকারিতা উদ্দীপিত হয় এবং লিভারের সার্বিক কাজের জন্য উপকারি।    
 
গ্রিনটি (Green Tea)
গ্রিনটি হচ্ছে লিভার লাভিং বেভারেজ বা যকৃৎ প্রেমী পানীয়। গ্রিনটি উদ্ভিজ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ক্যাটেচিন সমৃদ্ধ যা লিভারের কাজে সহযোগিতা করে। সুপেয় গ্রিনটি সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্যই উপকারি।
 
সবুজ শাক সবজি
সবুজ শাক সবজি শক্তিশালী লিভার পরিষ্কারক। সবুজ শাক সবজি কাঁচা, রান্না করে বা জুস হিসেবে খাওয়া যায়। সবুজ শাক সবজিতে অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার ক্লোরোফিল থাকে এবং এরা রক্ত প্রবাহ থেকে পরিবেশগত বিষ শোষণ করে নেয়। সবুজ শাক সবজির সহজাত প্রবণতা আছে ভারী ধাতু, রাসায়নিক ও কীটনাশককে নিস্ক্রিয় করার। সবুজ শাক সবজি লিভারের জন্য শক্তিশালী প্রতিরক্ষা প্রদান করে।      
 
এছাড়াও আপেল, অ্যাভোকাডো, ওলিভ অয়েল, লেবু, হলুদ, আখরোট, বাঁধাকপি, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, মিষ্টি আলু, ব্রোকলি, টম্যাটো ইত্যাদি খাবার নিয়মিত খেলে লিভার পরিষ্কার থাকবে।

> গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি

 গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি

একটি কথা প্রায়ই শোনা যায়, ‘আমার স্ত্রীতো অসুস্থ’ বা অমুক ভাবী, খালা অসুস্থ’। কেন, কী হয়েছে, কেন জানেন না, উনার তো বাচ্চা হবে। মেয়ে মাত্ররই তো মা হবে, এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম। এটা তো আর ৫-১০টা রোগের মতো অসুস্থতা নয়। বাচ্চা হওয়াটা শরীরের একটা অবস্থা মাত্র। এটা কোন রোগ নয়। কাজেই প্রথম থেকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলা উচিত এই ভাবনা।
 
Pregnancy Care Advice

এজন্যই চিকিত্সকগণ বলেন, মা হওয়ার আগে শারীরিক-মানসিক প্রস্তুতির বিশেষ প্রয়োজন আছে।  প্রাপ্ত বয়স্ক একজন নারী যখন মানসিকভাবে প্রস্তুত হবেন মা হওয়ার জন্য তখনই তার সন্তানধারণ করা উচিত। তার আগে নয়। কাজেই সন্তান ধারণের আগে একজন মায়ের যেমন প্রস্তুতি আছে, তেমনি পরিবারের আর সবারও আছে। নিচে গর্ভকালীন কিছু জটিলতার কথা উল্লেখ করা হলো। নূন্যতম প্রস্তুতি এবং সচেতনতা থাকলেও এগুলো মোকাবিলা করা তেমন কোন সমস্যা নয়। তবে জানা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-
  • রক্ত স্বল্পতা, জন্ডিস, খিঁচুনি, পা ফুলে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত বমি হওয়া, পেটে ব্যথা, বিশেষ করে তলপেটে ও শ্বাসকষ্ট হওয়া।
  • প্রায়ই জবর হওয়া
  • ডায়াবেটিস ধরা পড়া বা রক্তে সুগার পাওয়া
  • প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হওয়া
  • প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • দিন যাচ্ছে কিন্তু তলপেটের আকার বাড়ছে না
  • যোনিপথে রক্ত ক্ষরণ, রক্তস্রাব, দুরগন্ধযুক্ত স্রাব
  • জরায়ুর ভিতরে সন্তানে চড়াচড়া অনুভব করতে না পারা।
উপরোক্ত এই সমস্যাগুলো দেখা দিলে কোন রকম চিন্তা না করে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরী।

কি কি কারণে গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে

আগেই বলেছি মা হওয়ার জন্য বয়সটা খুব জরুরি।
  • ১৮ বছর বয়স না হতেই গর্ভধারণ
  • ৩০ বছরের পর প্রথম সন্তান নেয়া
  • ৪০ বছরের পর সন্তান ধারণ
  • চতুর্থ সন্তানের পর আবারও সন্তান ধারণ
  • আগের গর্ভের সময় জটিলতা হওয়া
  • অস্ত্রোপচারের পর নির্দিষ্ট সময় পার না হতেই আবার গর্ভধারণ করা।
  • মেয়েদের উচ্চতা, তুলনামূলক বেঁটে বা খাটো মেয়েদের গর্ভধারণ
  • রক্তস্বল্পতা ও যমজ সন্তান ধারণ।
গর্ভাবস্থায় প্রিএক্লামশিয়া (Pre Eclampsia)
 
এটি একটি অন্যতম জটিলতা। এক্ষেত্রে মায়ের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, প্রস্রাবে প্রোটিন, উপরের পেটে ব্যথা, বমি হওয়া, মাথা ব্যথা ইত্যাদি দৃশ্যত বেশ কিছু জটিলতা এসময় তৈরি হয়। গর্ভফুল বা প্লাসেন্টার কিছু সমস্যা এবং রক্ত সরবরাহের ঘাটতির কারণে দেখা দেয় এই এক্লামশিয়া। এগুলে া সাধারণত: হয় তখনই যখন আপনি প্রথম বারের মত মা হচ্ছেন, আপনার ওজন বেশি, বয়স ৪০ এর বেশি, আপনার উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস অথবা কিডনির সমস্যা আছে। আপনার পরিবারের অন্য কারো এক্লামশিয়া ছিলো অথবা আপনি বহুবার অন্তসত্মা হয়েছেন।
 
গর্ভফুল বা প্লাসেন্টা সমস্যা
 
সাধারণত: এর কোন লক্ষণ দেখা যায় না। একমাত্র স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমেই এটা ডায়াগনসিস করা সম্ভব হয়। তবে যোনিপথে রক্তক্ষরণ হলে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। গর্ভফুল সাধারণত আংশিক বা পুরোপুরি ঢেকে ফেলে জরায়ুর মুখকে। প্রস্রব ব্যথা শুরুর পর জরায়ুর মুখ যখন খুলে যায়, তখন গর্ভফুল ক্রমেই সরে আসতে থাকে গর্ভাশয়ের দেয়াল থেকে। এসময়টা তাদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ যারা অধিক সন্তান জন্ম দিয়েছেন, জরায়ুতে এর আগে অপারেশন করা হয়েছে অথবা আগের সন্তান যদি সিজারিয়ান-এর মাধ্যমে হয়ে থাকে।
 
গর্ভাবস্থায় রিলাক্সিন হরমোন জয়েনগুলোকে অনেকটাই শিথিল করে দেয়। কিন্তু এটা যদি বেশি পরিমাণে হয়, তখন তা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন-কোমরের জয়েন্টের ওপরে ব্যথা, পিউবিক হাড় এবং পিঠের নিচে ব্যথা হতে পারে এ কারণে। গর্ভাবস্থায় যে কোনো সময়ে এটি হতে পারে। তবে প্রথম তিন মাসের পর এটি হতে দেখা যায়।
 
গর্ভাবস্থায় চুলকানি
 
অনেকের গর্ভাবস্থায় হাতে-পায়ে  হতে পারে। এটা সাধারণত যকৃতের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। এটা যে কারও হতে পারে। তবে পরিবারের মা বা বোনের এরকম ইতিহাস থাকলে এটা হওয়া খুবই স্বাভাবিক।
 
গর্ভাবস্থায় মায়ের ওজন
 
এটি একটি অন্যতম বিবেচ্য বিষয়। নির্দিষ্ট অনুপাতে ওজন না বাড়া হচ্ছে সন্তানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যহত হওয়া বা মায়ের সঠিক পুষ্টির অভাব। এর মানে মাকে প্রয়োজনীয় খাবারগুলো সুষম খাবার খাওয়া একান্ত আবশ্যক। একজন নারীর স্বাভাবিক অবস্থায় যে পরিমাণ সুষম খাবার প্রয়োজন, সেই তিনিই যখন সন্তান ধারণ করেন তখন তার চাহিদা আরও বেড়ে যায়। প্রসূতি মায়েদের ক্ষেত্রেই খাবারটা খুবই জরুরি।
গর্ভবতী নারীর অতিরিক্ত খাবার প্রয়োজন হয় প্রধানত: দুটি কারণে।
এক-নিজের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে, অর্থ্যাত্ আসন্ন সন্তান প্রসবের জন্য নিজেকে তৈরি করতে।
দুই-গর্ভস্থ ভ্রুণের গঠন ও বৃদ্ধি ঠিক রাখতে।
মা যদি খাবার কম খান তাহলে সন্তানের ওজনও বাড়বে না, প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হবে। শেষ পর্যন্ত একটি অপরিণত শিশুর জন্ম হবে। একটা কথা মনে রাখতে হবে, যেকোন জটিলতা এড়াতে নিয়মিত চিকিত্সকের কাছে যাওয়ার কোন বিকল্প নেই। যেকোন কিছুই হোক না কেন, তা চেক-আপে ধরা পড়বেই। আর তাহলে চিকিত্সাও সম্ভব হবে। আর রোগীর মনকেও অনেকখানি প্রশান্তি দেওয়া সম্ভব হবে। সুতরাং একটি সুস্থ-সুন্দর ভবিষ্যত গড়তে মায়েদের প্রতি যত্নশীল হওয়ার কোন বিকল্প নেই।
n.b-(c.d)

তৈলাক্ত খাবার হৃদরোগের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ : দেবি শেঠি !!

তৈলাক্ত খাবার হৃদরোগের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ : দেবি শেঠি !!
.
পোষ্ট টি মন দিয়ে পড়বেন আপনারই উপকার হবে
আর পোষ্ট টি শেয়ার করে অন্যদের কে উপকার করবেন ।
দেবি শেঠি ভারতের বিখ্যাত চিকিৎসক। বলা হয়, বিশ্বের সেরা ১০ জন সার্জনের একজন তিনি।বাংলাদেশেও তিনি বেশ পরিচিত। ভারতের কর্নাটক রাজ্যের ব্যাঙ্গালোর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে শেঠির নারায়ণা হৃদয়ালয় হাসপাতালটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান হাসপাতাল।
প্রশ্ন: হৃদরোগ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নয় এমন মানুষেরা কিভাবে হৃদযন্ত্রের যত্ন নিতে পারে?
দেবি শেঠি: ১. খাবারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। শর্করা এবং চর্বিজাত খাবার কম খেতে হবে। আর আমিষের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে।
২. সপ্তাহে অন্তত পাঁচদিন আধা ঘণ্টা করে হাঁটতে হবে। লিফটে চড়া এড়াতে হবে। একটানা বেশি সময় বসে থাকা যাবে না।
৩. ধূমপান ত্যাগ করতে হবে।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৫. রক্তচাপ এবং সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
প্রশ্ন: শাক জাতীয় নয়, এমন খাবার (যেমন মাছ) খাওয়া কি হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: মাঝে মাঝে শোনা যায় সুস্থ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে যা খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখেন?
দেবি শেঠি: এটাকে বলে নীরব আক্রমণ। এজন্যই ত্রিশোর্ধ্ব সকলের উচিত নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।
প্রশ্ন: মানুষ কি উত্তরাধিকারসূত্রে হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে কেন? এর থেকে উত্তরণের উপায় কি?
দেবি শেঠি: জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। জীবনে সব কিছু নিখুঁত হবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।
প্রশ্ন: জগিং করার চেয়ে কি হাঁটা ভারেঅ? নাকি হৃদযন্ত্রের যত্ন নেয়ার জন্য আরো কঠিন ব্যায়াম জরুরি?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ, জগিং করার চেয়ে হাঁটা ভালো। জগিং করলে মানুষ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায় এবং জয়েন্টে ব্যথা হয়।
প্রশ্ন: দরিদ্র এবং অভাবগ্রস্তদের জন্য আপনি অনেক কিছু করেছেন। এসবের পেছনে অনুপ্রেরণা কি ছিল?
দেবি শেঠি: মাদার তেরেসা। তিনি আমার রোগী ছিলেন।
প্রশ্ন: নিম্ন রক্তচাপে যারা ভোগেন, তারা কি হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে?
দেবি শেঠি: সেটা হবে খুবই বিরল।
প্রশ্ন: কোলেস্টেরলের মাত্রা কি অল্প বয়স থেকেই বাড়তে থাকে? নাকি ত্রিশের পর এ বিষয়ে চিন্তিত হওয়া উচিত?
দেবি শেঠি: না, কোলেস্টেরলের মাত্রা ছোটবেলা থেকেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
প্রশ্ন: অনিয়মিত খাদ্যাভাস কিভাবে হৃদযন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে?
দেবি শেঠি: অনিয়মিত খাদ্যাভাস মানুষকে জাঙ্ক ফুডের দিকে ঠেলে দেয়। আর তখনই হজমের জন্য ব্যবহৃত এনজাইমগুলো দ্বিধায় পড়ে যায়।
প্রশ্ন: ওষুধ ছাড়া কিভাবে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
দেবি শেঠি: নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস, হাঁটাহাঁটি এবং আখরোট খাওয়ার মাধ্যমে।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের জন্য সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে খারাপ খাবার কোনটি?
দেবি শেঠি: ফল এবং সবজি সবচেয়ে ভাল খাবার। আর সবচেয়ে খারাপ তৈলাক্ত খাবার।
প্রশ্ন: কোন তেল ভালো? সূর্যমুখী নাকি জলপাই?
দেবি শেঠি: যেকোনো তেলই খারাপ।
প্রশ্ন: নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কি নির্দিষ্ট কোনো পরীক্ষা আছে?
দেবি শেঠি: নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সুগার এবং কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। তাছাড়া রক্তচাপ পরিমাপও জরুরি।
প্রশ্ন: হার্ট অ্যাটাক হলে প্রাথমিকভাবে কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে?
দেবি শেঠি: রোগীকে প্রথমে শুইয়ে দিতে হবে। এরপর জিহ্বার নিচে একটি এ্যাসপিরিন ট্যাবলেট রাখতে হবে। যদি পাওয়া যায় তবে এ্যাসপিরিনের পাশাপাশি একটি সরবিট্রেট ট্যাবলেটও রাখতে হবে। এরপর দ্রুত হাসপাতালে নেবার ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়।
প্রশ্ন: হৃদরোগজনিত ব্যথা এবং গ্যাস্ট্রিকের ব্যথার মধ্যে পার্থক্য করা যায় কিভাবে?
দেবি শেঠি: ইসিজি ছাড়া এটা সত্যিই খুব কঠিন।
প্রশ্ন: যুবকদের মধ্যে হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত সমস্যার আধিক্যের কারণ কি?
দেবি শেঠি: একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ধূমপান এবং জাঙ্ক ফুড। তাছাড়া ব্যায়াম না করাও একটি প্রধান কারণ। কিছু কিছু দেশের মানুষের জেনেটিক কারণেই ইউরোপিয়ান এবং আমেরিকানদের চেয়ে তিন গুণ বেশি হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
প্রশ্ন: রক্তচাপের স্বাভাবিক মাত্রা (১২০/৮০) না থাকলেও কি কেউ পুরোপুরি সুস্থ থাকতে পারে?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ।
প্রশ্ন: নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে করলে সন্তানের হৃদরোগ হতে পারে- এটা কি সত্য?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ। নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে জন্মগত অস্বাভাবিকতার দিকে ঠেলে দেয়।
প্রশ্ন: বেশিরভাগ মানুষ অনিয়ন্ত্রিত রুটিন অনুসরণ করে। মাঝে মাঝে মানুষকে অনেক রাত পর্যন্ত অফিসে থাকতে হয়। এতে কি হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হয়? যদি হয় তবে এক্ষেত্রে কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?
দেবি শেঠি: তরুণ বয়সে প্রকৃতি মানুষকে এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
প্রশ্ন: অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধ গ্রহণ করলে অন্য কোন জটিলতা তৈরি হয়?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ, বেশিরভাগ ওষুধেরই কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে। কিন্তু আধুনিক অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধগুলো অনেক নিরাপদ।
প্রশ্ন: অতিরিক্ত চা বা কফি খেলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: অ্যাজমা রোগীদের কি হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: জাঙ্ক ফুডকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন?
দেবি শেঠি: যেকোনো ধরনের ফ্রাইড ফুড যেমন কেন্টাকি, ম্যাকডোনাল্ডস, সমুচা। এমনকি মাসালা দোসাও জাঙ্ক ফুড।
প্রশ্ন: আপনার মতে ভারতীয়দের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা তিন গুণ বেশি। এর কারণ কি?
দেবি শেঠি: পৃথিবীর প্রতিটি জাতিরই কিছু নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। দুঃখজনক হলেও সত্য, জাতি হিসেবে ভারতীয়দের সবচেয়ে ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি।
প্রশ্ন: কলা খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: হার্ট অ্যাটাক হলে কেউ কি নিজে নিজে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারে?
দেবি শেঠি: অবশ্যই। তাকে প্রথমেই শুতে হবে এবং একটি এ্যাসপিরিন ট্যাবলেট জিহবার নিচে রাখতে হবে। এরপর দ্রুত আশপাশের কাউকে বলতে হবে যেন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি মনে করি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করা ঠিক নয়। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাম্বুলেন্স যথাসময়ে হাজির হয় না।
প্রশ্ন: রক্তে শ্বেতকণিকা এবং হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে কি হৃদরোগ হতে পারে?
দেবি শেঠি: না। কিন্তু নিয়মিত ব্যায়াম করার জন্য হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকা জরুরি।
প্রশ্ন: আমাদের ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে অনেক সময় ব্যায়াম করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে ঘরের স্বাভাবিক কাজের সময় হাঁটাহাঁটি করা অথবা সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করা কি ব্যায়ামের বিকল্প হতে পারে?
দেবি শেঠি: অবশ্যই। একটানা আধা ঘণ্টার বেশি বসে থাকার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। এমনকি এক চেয়ার থেকে উঠে অন্য চেয়ারে যেয়ে বসাও শরীরের জন্য অনেকটা সহায়ক।
প্রশ্ন: হৃদরোগ এবং রক্তে সুগারের পরিমাণের সাথে কি কোনো সম্পর্ক আছে?
দেবি শেঠি: বেশ গভীর সম্পর্ক আছে। ডায়াবেটিস রোগীদের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অনেক।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর কি কি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে?
দেবি শেঠি: পরিমিত খাদ্যাভাস, ব্যায়াম, নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা। পাশাপাশি রক্তচাপ এবং ওজনও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
প্রশ্ন: যারা রাতের শিফটে কাজ করেন তাদের কি হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: আধুনিক অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধগু কোনগুলো?
দেবি শেঠি: অনেক ওষুধই আছে। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি। তবে আমার পরামর্শ হলো, ওষুধ এড়িয়ে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা। আর সেজন্য নিয়মিত হাঁটা, ওজন কমে এমন খাবার খাওয়া এবং জীবনযাত্রার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।
প্রশ্ন: ডিসপিরিন বা এই ধরনের মাথাব্যথা উপশমকারী ট্যাবলেট কি হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ায়?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা কেন হৃদরোগে বেশি আক্রান্ত হয়?
দেবি শেঠি: প্রকৃতি মেয়েদেরকে ৪৫ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার উপায় কি?
দেবি শেঠি: স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। জাঙ্ক ফুড ও ধূমপান পরিহার করতে হবে। প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে। আর বয়স ত্রিশ পার হলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। অন্তত প্রতি ছয় মাসে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতেই হবে।
(ফেসবুক বন্ধুদের জন্যে বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: দেবি শেঠি’র এই পরামর্শ আশা করি সকলের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান মনে হবে। উপকৃতও হবেন অনেকেই। এই কথপোকথন কেমন লাগল জানাতে ভুলবেন না আশা করি! N.B-(c.d)