Sunday, June 29, 2025

কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা কেন গুরুত্বপূর্ণ? Palash Dip

 কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


এর ওপর আপনার ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতা, মানসিক শান্তি এবং সামগ্রিকভাবে অফিসের পরিবেশ নির্ভর করে। যদি সহকর্মীদের সাথে মনোমালিন্য হয়, তাহলে তার পরিণতি ইতিবাচক হওয়ার চেয়ে নেতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

কেন সুসম্পর্ক জরুরি?

 * সহযোগিতা বৃদ্ধি: সহকর্মীদের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকলে দলগত কাজ সহজ হয়। একে অপরের প্রতি আস্থা তৈরি হয়, যা কাজের মান উন্নত করে। প্রয়োজনে একে অপরের সাহায্য পাওয়া যায়, যা ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক।

 * কর্মপরিবেশের উন্নতি: ইতিবাচক সম্পর্ক একটি আনন্দদায়ক এবং সহায়ক কর্মপরিবেশ তৈরি করে। এর ফলে অফিসের চাপ কমে এবং কাজ করতে ভালো লাগে।

 * যোগাযোগের উন্নতি: সুসম্পর্ক থাকলে খোলামেলা যোগাযোগ সম্ভব হয়। সমস্যা হলে তা দ্রুত আলোচনা করে সমাধান করা যায়, ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ কমে।

 * মানসিক শান্তি: প্রতিদিন যাদের সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হয়, তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকলে মানসিক চাপ অনেক কমে। কর্মক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ হয়।

 * পেশাগত উন্নতি: সহকর্মীদের কাছ থেকে নতুন কিছু শেখা যায়, তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যায়। ভালো সম্পর্ক থাকলে তারা আপনার কাজকে সমর্থন করবে এবং আপনার উন্নতির পথ প্রশস্ত হবে।

 * সমস্যা মোকাবিলা: অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ বা সমস্যা এলে সহকর্মীদের সহায়তা পাওয়া যায়, যা কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাহায্য করে।

মনোমালিন্য হলে কী হতে পারে?

সহকর্মীদের সাথে মনোমালিন্য হলে তার ফলাফল সাধারণত ক্ষতিকর হয়:

 * কাজের ক্ষতি: মনোমালিন্য হলে কাজের সমন্বয় নষ্ট হয়। একে অপরকে সাহায্য করার প্রবণতা কমে যায়, যার ফলে প্রকল্পের অগ্রগতি ধীর হতে পারে বা কাজের মান কমে যেতে পারে।

 * অফিসের পরিবেশ নষ্ট: কর্মক্ষেত্রে উত্তেজনা এবং নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়, যা সবার জন্য অস্বস্তিকর। এর ফলে অফিসের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা কমে।

 * মানসিক চাপ বৃদ্ধি: মনোমালিন্য আপনার ব্যক্তিগত মানসিক চাপ অনেক বাড়িয়ে দেয়। কর্মক্ষেত্রে যেতে অনীহা তৈরি হতে পারে, যা দৈনন্দিন জীবনকেও প্রভাবিত করে।

 * যোগাযোগের অভাব: ভুল বোঝাবুঝি বা মনোমালিন্য থাকলে একে অপরের সাথে কথা বলা কমে যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান হয় না, যা ভুল সিদ্ধান্ত বা কাজের ত্রুটির কারণ হতে পারে।

 * একাকীত্ব এবং বিচ্ছিন্নতা: মনোমালিন্যের কারণে আপনি কর্মক্ষেত্রে নিজেকে একা বা বিচ্ছিন্ন মনে করতে পারেন, যা আপনার আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে।

 * পেশাগত ক্ষতির সম্ভাবনা: ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চোখে আপনার ভাবমূর্তি খারাপ হতে পারে। দলগত কাজে সমস্যা তৈরি হওয়ায় আপনার কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, যা আপনার পদোন্নতি বা ভবিষ্যতের সুযোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

 * অস্থিরতা: মনোমালিন্য অফিসের মধ্যে গ্রুপিং বা বিভেদ তৈরি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর।

ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিণতি (লাভ বনাম ক্ষতি)

লাভ: মনোমালিন্য থেকে সরাসরি কোনো স্থায়ী লাভের সম্ভাবনা খুবই কম। তবে, যদি কোনো মনোমালিন্য থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের যোগাযোগ বা আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়, তাহলে সেটি পরোক্ষ লাভ হিসেবে গণ্য হতে পারে। কিন্তু এটি খুবই বিরল এবং ক্ষতিকর প্রভাবই বেশি।

ক্ষতি: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্ষতিই হয়। কর্মজীবনের স্থায়িত্ব, মানসিক সুস্থতা, পেশাগত উন্নতি—সবকিছুই বাধাগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এমন পরিস্থিতি কর্মজীবন ছেড়ে দেওয়ার কারণও হতে পারে।

পরিত্রাণের উপায়

যদি সহকর্মীদের সাথে মনোমালিন্য হয়, তবে তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:

 * খোলামেলা কথা বলুন: যদি সম্ভব হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সহকর্মীর সাথে সরাসরি এবং শান্তভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করুন। আপনার অনুভূতি প্রকাশ করুন এবং তার কথাও শুনুন। ভুল বোঝাবুঝি দূর করার এটিই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

 * শ্রবণ দক্ষতা বাড়ান: অন্য সহকর্মীর দৃষ্টিকোণ বোঝার চেষ্টা করুন। অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি হয় কারণ আমরা অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনি না।

 * সমাধানে মনোযোগ দিন, দোষারোপ নয়: কে দায়ী, তা নিয়ে বিতর্কে না গিয়ে সমস্যার সমাধানে মনোযোগ দিন। "আমি" এবং "আপনি" এর পরিবর্তে "আমরা" শব্দটি ব্যবহার করুন।

 * ক্ষমা চাওয়া বা ক্ষমা করা: যদি আপনার দিক থেকে কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে ক্ষমা চাইতে দ্বিধা করবেন না। একইভাবে, যদি অন্য কেউ ক্ষমা চায়, তবে উদারভাবে ক্ষমা করে দিন।

 * তৃতীয় পক্ষের সহায়তা: যদি ব্যক্তিগতভাবে সমাধান করা সম্ভব না হয়, তবে একজন নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষ (যেমন, ম্যানেজার বা এইচআর) এর সহায়তা নিতে পারেন। তারা মধ্যস্থতা করে একটি সমাধান খুঁজে দিতে পারেন।

 * পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন: ব্যক্তিগত সম্পর্ক খারাপ হলেও কর্মক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন। কাজের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়তে দেবেন না।

 * সীমা নির্ধারণ করুন: যদি কোনো সহকর্মী বারবার সমস্যা তৈরি করে, তবে তার সাথে একটি নির্দিষ্ট পেশাগত সীমা বজায় রাখুন। অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত আলোচনা এড়িয়ে চলুন।

 * ইতিবাচক মনোভাব রাখুন: ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করলে তা চারপাশের মানুষের ওপরও প্রভাব ফেলে। আপনার শান্ত ও ইতিবাচক আচরণ উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করবে।

 * নিজেকে শান্ত রাখুন: মনোমালিন্যের সময় আবেগপ্রবণ না হয়ে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। গভীর শ্বাস নিন এবং পরিস্থিতি ভালোভাবে বিশ্লেষণ করুন।

সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা একটি চলমান প্রক্রিয়া। ছোটখাটো সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করার মাধ্যমে বড় ধরনের মনোমালিন্য এড়ানো সম্ভব। আপনার কর্মজীবনের সাফল্যের জন্য এটি একটি অপরিহার্য অংশ।

Thursday, June 12, 2025

পুরুষ নির্যাতন Palash Dip

বাংলাদেশে 'পুরুষ নির্যাতন


দমন আইন' নামে কোনো সুনির্দিষ্ট বা পৃথক আইন নেই, যেমনটি 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০' রয়েছে। তবে, এর অর্থ এই নয় যে পুরুষরা নির্যাতনের শিকার হলে আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন না। বাংলাদেশের প্রচলিত কিছু সাধারণ আইন এবং কিছু বিশেষ আইনের ধারার মাধ্যমে পুরুষরা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের জন্য প্রতিকার চাইতে পারেন_PalashDip

পুরুষদের নির্যাতনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে এমন কিছু আইন ও ধারা নিচে উল্লেখ করা হলো:(Palash Dip)
১. দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (The Penal Code, 1860):
* শারীরিক নির্যাতন: যদি কোনো পুরুষ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন, তাহলে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা করতে পারেন। যেমন:
* ধারা ৩২৩ (স্বেচ্ছায় আঘাত করা): সাধারণ আঘাতের জন্য।
* ধারা ৩২৫ (গুরুতর আঘাত করা): গুরুতর আঘাতের জন্য।
* ধারা ৩০৭ (হত্যার চেষ্টা): হত্যার চেষ্টার জন্য।
* ধারা ৩২৬ (মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আঘাত): ধারালো অস্ত্র বা অন্য কোনো মারাত্মক বস্তুর দ্বারা গুরুতর আঘাত করার জন্য।
* যৌন নির্যাতন/বলাৎকার: দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা (প্রকৃতিবিরুদ্ধ অপরাধ) পুরুষদের যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে, যদিও এই ধারাটি সমকামিতা এবং অপ্রাকৃতিক যৌনকর্মকে মূলত নির্দেশ করে। তবে, সাম্প্রতিককালে উচ্চ আদালত কিছু ক্ষেত্রে ছেলেশিশুদের বলাৎকারকে ধর্ষণের সমতুল্য বিবেচনা করেছেন, যদিও দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা (ধর্ষণ) কেবল নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পুরুষ ধর্ষণের শিকার হলে সুনির্দিষ্ট আইনের অভাবে প্রতিকার পেতে জটিলতা দেখা যায়।
* মিথ্যা মামলা: যদি কোনো পুরুষ মিথ্যা মামলা, বিশেষ করে নারী নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মিথ্যা মামলার শিকার হন, তাহলে দণ্ডবিধির ১৯৩ (মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া), ২১১ (ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ) বা ২১০ (মিথ্যা মামলা করা) ধারায় প্রতিকার চাইতে পারেন।(Palash Dip)
২. পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০:
* এই আইনটি মূলত নারী ও শিশুদের পারিবারিক সহিংসতা থেকে সুরক্ষার জন্য প্রণীত হলেও, এর কিছু ব্যাখ্যায় সহিংসতা বলতে শারীরিক, মানসিক, যৌন, অর্থনৈতিক – সব ধরনের নির্যাতনকে বোঝানো হয়েছে। এই আইনের "ব্যথিত ব্যক্তি" (aggrieved person) এর সংজ্ঞায় নারী ও শিশুর কথা বলা হলেও, কিছু ক্ষেত্রে পুরুষরাও মানসিক বা অর্থনৈতিক সহিংসতার শিকার হলে এর আওতাভুক্ত হতে পারেন এমন বিতর্ক রয়েছে। তবে, আইনটির মূল লক্ষ্য নারী ও শিশু হওয়ায় পুরুষদের জন্য এটি সরাসরি এবং পূর্ণাঙ্গ সমাধান দেয় না।@PalashDip
৩. ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (The Code of Criminal Procedure, 1898):
* যেকোনো ফৌজদারি অপরাধের জন্য থানায় এজাহার (FIR) দায়ের করা যায়। যদি পুলিশ মামলা নিতে না চায়, তাহলে একজন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি মামলা (Complaint Case) দায়ের করা যায়। পুরুষরাও এই সাধারণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য বিচার চাইতে পারেন।
পুরুষ নির্যাতনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা:
* সুনির্দিষ্ট আইনের অভাব: বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের জন্য যেমন সুনির্দিষ্ট আইন আছে, পুরুষদের জন্য তেমন কোনো পৃথক 'পুরুষ নির্যাতন দমন আইন' নেই। ফলে পুরুষ নির্যাতনের শিকার হলে তাদের সাধারণ ফৌজদারি আইনগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়, যা অনেক সময় পর্যাপ্ত হয় না বা প্রতিকার পেতে জটিলতা সৃষ্টি করে।
* সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ট্যাবু: পুরুষরা নির্যাতিত হলে, বিশেষ করে পারিবারিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হলে, সমাজে তা সহজে স্বীকার করা হয় না। পুরুষদের "শক্তিশালী" হিসেবে দেখার প্রবণতার কারণে তারা নির্যাতনের শিকার হলেও অনেক সময় লজ্জা বা সামাজিক সম্মানের ভয়ে আইনের আশ্রয় নিতে দ্বিধা করেন।
* ধর্ষণের সংজ্ঞায় সীমাবদ্ধতা: দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা শুধু নারীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ফলে পুরুষ, বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষরা ধর্ষণের শিকার হলে সরাসরি এই ধারায় মামলা করতে পারেন না।
* মিথ্যা মামলার অপব্যবহার: অনেক ক্ষেত্রে নারী নির্যাতন দমন আইনের অপব্যবহার করে পুরুষদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়। যদিও মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান আছে, তবে সেই প্রক্রিয়া অনেক দীর্ঘ ও জটিল।
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ:
অনেক মানবাধিকার কর্মী এবং বিভিন্ন পুরুষ অধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছে। এর ফলে পুরুষরাও তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যেকোনো অপরাধের জন্য যথাযথ আইনি প্রতিকার পেতে পারবে এবং সমাজে জেন্ডার সমতা নিশ্চিত হবে।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের আইনে পুরুষ নির্যাতনের জন্য সরাসরি কোনো পৃথক আইন না থাকলেও, প্রচলিত কিছু আইনের মাধ্যমে আংশিক প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে, একটি সুনির্দিষ্ট আইনের অভাব এবং সামাজিক ট্যাবু পুরুষদের আইনি আশ্রয় নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা।@palashdip
Palash Dip
Inspector
Bangladesh Police
#আইন #police #life #palashdip #আদালত

স্টারলিংকের দিন শেষ, আসছে তারা_Palash Dip

 স্টারলিংকের দিন শেষ, আসছে তারা_Palash Dip


প্রযুক্তির ধারাবাহিক অগ্রগতির মধ্যেই বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল ইলন মাস্কের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট প্রযুক্তি ‘স্টারলিংক’। তবে এবার সেই প্রযুক্তিকে টক্কর দিতে আবির্ভূত হয়েছে এক ভিন্নধর্মী উদ্ভাবন ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক স্টার্টআপ ‘তারা’ নিয়ে এসেছে স্যাটেলাইট বা ফাইবার ছাড়াই উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ প্রযুক্তি।


কীভাবে কাজ করে তারা 

‘তারা’র প্রযুক্তি মূলত কাজ করে লাইট ব্রিজ এর মাধ্যমে। এতে এক পাশে থাকে লেজার প্রজেক্টর, অন্য পাশে রিসিভার। এই লেজার সরাসরি ডেটা পাঠায় নির্দিষ্ট গন্তব্যে, যার ফলে কোনো স্যাটেলাইট বা ভূগর্ভস্থ ফাইবারের প্রয়োজন পড়ে না।


গতিতে স্টারলিংককে ছাপিয়ে  

তারা দাবি করেছে, তাদের প্রযুক্তি স্টারলিংকের চেয়ে ১০ থেকে ১০০ গুণ বেশি গতি দিতে সক্ষম। প্রতি সেকেন্ডে ২০ গিগাবিট গতিতে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে এবং ২০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত তা বজায় রাখতে সক্ষম।


প্রাকৃতিক বাধায়ও নির্ভরযোগ্য  

‘তারা’ ব্যবহার করছে অটো-অ্যালাইনমেন্ট সিস্টেম, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেজারের দিক ঠিক করে সংযোগ স্থিতিশীল রাখে। কুয়াশা, বৃষ্টি বা পাখির মতো বাধাও সংযোগে বিঘ্ন ঘটাতে পারে না।


বিশ্বজুড়ে সফল ব্যবহার  

ইতোমধ্যে বিশ্বের ১২টি দেশে সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে তারা’র প্রযুক্তি। কঙ্গো নদীর দুই তীরের রাজধানী—ব্রাজাভিল ও কিনশাসার মাঝে এই লেজার লিংকে ৭০০ টেরাবাইট ডেটা ট্রান্সফার হয়েছে ৯৯.৯৯% আপটাইম নিশ্চিত করে।


ফোনোটিক্স চিপ

২০২৬ সালে তারা বাজারে আনছে ‘ফোনোটিক্স চিপ’, যা ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন ও IoT ডিভাইসে ব্যবহৃত হবে। দুর্যোগকালে এটি ফাইবার নেটওয়ার্কের বিকল্প হিসেবেও কাজ করতে পারবে।‘তারা’র উদ্ভাবন সত্যিই এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন প্রশ্ন এটা কি স্টারলিংকের জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে যাবে? নাকি উভয় প্রযুক্তি যুগপৎ এগিয়ে গিয়ে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট অভিগম্যতা আরও সহজ করে তুলবে? উত্তর দেবে সময়।(Collected)

Monday, June 9, 2025

ফেসবুক থেকে বোনাস পাওয়ার নিয়ম

 

ফেসবুক থেকে বোনাস পাওয়ার নিয়ম

ফেসবুক এক্সট্রা বোনাস 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারী বা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য উপার্জনের পদ্ধতিতে মাঝে মাঝে পরিবর্তন আনে। কয়েক মাস হলো তারা ‘কনটেন্ট মনিটাইজেশন’ নামে নতুন পদ্ধতি চালু করেছে। পর্যায়ক্রমে সব পেজ ও প্রোফাইলে এই কনটেন্ট মনিটাইজেশন চালু হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রথম শ্রেণির বা বড় বড় পেজ, যারা নিয়মিত কনটেন্ট আপলোড করে এমন প্রায় সব পেজে কনটেন্ট মনিটাইজেশন চালু হয়েছে। তবে পেজে ভায়োলেশন বা স্ট্রাইক থাকলে সেই পেজ বা প্রোফাইল অনেক সময় কনটেন্ট মনিটাইজেশন পায় না।

কনটেন্ট মনিটাইজেশন যাদের চালু হয়েছে তাদের অনেকেই বোনাস অফার পাচ্ছেন। তবে বোনাস কার জন্য কী পরিমাণ হবে এবং কার জন্য কী শর্ত থাকবে তা ওই পেজ বা প্রোফাইলের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে। আপনার পেজ কতটা সক্রিয়, কনটেন্টের গুণমান কেমন, দর্শকের সাথে আপনার ইন্টার‍্যাকশন কেমন- এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে ফেসবুক সিদ্ধান্ত নেয় আপনার জন্য কোন ধরনের অফার সবচেয়ে উপযুক্ত হবে। এজন্য একই ধরনের পেজ হলেও একেকজনের বোনাস অফার ও শর্ত আলাদা হয়ে থাকে।। ফলে বোনাস অফার একজনের সঙ্গে অন্যজনের মিলবে না, আবার বোনাসের শর্তও থাকবে আলাদা। একটি নির্দিষ্ট পেজের একাধিক বোনাস অফারের ক্ষেত্রেও শর্ত আলাদা থাকে।

আপনার জন্য কোনো বোনাস অফার আছে কি না তা আপনি আপনার পেজ বা প্রোফাইলে গিয়ে দেখতে পাবেন। মোবাইল থেকে সরাসরি ড্যাশ বোর্ডে (Dashboard) গিয়ে মনিটাইজেশনে (Monetization) যেতে হবে। মনিটাইজেশনে গেলে আপনি কনটেন্ট মনিটাইজেশন (Content Monetisation) দেখতে পাবেন। এখানে ক্লিক করলে এক্সট্রা বোনাস (Extra Bonus) লেখা দেখা যাবে। তার নিচে আপনার বোনাসের পরিমাণ ও শর্ত দেখতে পাবেন। কম্পিউটারে হলে আপনার পেজ বা প্রোফাইলে সুইচ করে মনিটাইজেশনে যেতে হবে। সেখানে আপনি কনটেন্ট মনিটাইজেশন পাবেন। সেটাতে ক্লিক করে সামনে এগোলে এক্সট্রা বোনাস অফার থাকলে তা দেখা যাবে।

ফেসবুকের বোনাস অফারগুলো সাধারণত ৭ দিনের মেয়াদে কার্যকর থাকে। অফার প্রাপ্তির দিন থেকেই ৭ দিনের মধ্যে নির্ধারিত শর্ত বা টার্গেট পূরণ করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি এক্সট্রা বোনাস অফারে বলা হতে পারে- ‘আগামী ৭ দিনের মধ্যে ৩টি কনটেন্টে ১০ লাখ করে রিচ হলেই আপনি পাবেন ৩০০ ডলার।’ যদিও ৭ দিনের সময়সীমা ও কনটেন্টের সংখ্যাটি প্রায় সবার জন্য এক, তবে প্রত্যেক কনটেন্টে কত রিচ লাগবে এবং বোনাসের পরিমাণ কত হবে, তা একেক ব্যবহারকারীর জন্য ভিন্ন হতে পারে। এমনকি, একই পেজে পরপর দুটি বোনাস অফার হলেও, সেগুলোর শর্ত ও অর্থমূল্য আলাদা হতে পারে।

সাত দিন পার হওয়ার পরও যদি আপনি বোনাস অফারের টার্গেট বা শর্ত পূরণ করতে না পারেন তাহলে শুধু ওই বোনাস অফারটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। ফলে এর পরে ওই পরিমাণ কনটেন্টে রিচ হলেও বোনাস পাওয়া যাবে না। তবে একটি বোনাস অফার যখন শেষ তখন সাধারণত পরবর্তী সপ্তাহে ফেসবুক নতুন আরেকটি বোনাসের অফার দেয়।

এখানে ফেসবুক ওই পেজের পারফরম্যান্স বুঝে নতুন অফার দেয়। যেমন- যদি আপনি আগের অফারের টার্গেট পূরণ করতে না পারেন তাহলে আপনার জন্য পরের অফার সহজ ও কম ডলারের হতে পারে। আগে ৩টি কনটেন্ট আপনি ১০ লাখ করে পূরণ করতে না পারায় এবার আপনাকে ৩টি কনটেন্ট ৮ লাখ করে রিচের শর্ত দেওয়া হতে পারে। আগের ৩০০ ডলারের জায়গায় এবার ২৫০ ডলার হতে পারে।

আবার যদি আপনি আগের বোনাস অফারের টার্গেট পূরণ করতে পারেন তাহলে এবার আপনার জন্য একটু কঠিন করা হতে পারে। যেমন আপনি ৩টি কনটেন্ট ১০ লাখ করে রিচ করতে পারলে এবার আপনাকে ১২ লাখ করে রিচের শর্ত দেওয়া হতে পারে। ডলারের পরিমাণ সামান্য বাড়তে পারে আবার কমতেও পারে। (পলাশ দ্বীপ)

(Collected)

Palash Dip

https://www.facebook.com/share/1CCMTJSvxA/

https://youtube.com/@palashdip?si=f4DdzSse1Yv7l1xC



Saturday, April 8, 2023

Monday, November 8, 2021

ক্যান্সার_সচেতনতাঃ

 #ক্যান্সার_সচেতনতাঃ


ওশ স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটি, মস্কো, রাশিয়ার ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. গুপ্তপ্রসাদ রেড্ডি (বি ভি) বলেছেন, ক্যান্সার কোনো মরণব্যাধি নয়, কিন্তু মানুষ এই রোগে মারা যায় শুধুমাত্র উদাসীনতার কারণে।


তার মতে, মাত্র দুটি উপায় অনুসরণ করলেই উধাও হবে ক্যান্সার। উপায়গুলো হচ্ছে:-


১. প্রথমেই সব ধরনের সুগার বা চিনি খাওয়া ছেড়ে দিন। কেননা, শরীরে চিনি না পেলে ক্যান্সার সেলগুলো এমনিতেই বা প্রাকৃতিকভাবেই বিনাশ হয়ে যাবে।


২. এরপর এক গ্লাস গরম জলে একটি লেবু চিপে মি


শিয়ে নিন। টানা তিন মাস সকালে খাবারের আগে খালি পেটে এই লেবু মিশ্রিত গরম জল পান করুন। উধাও হয়ে যাবে ক্যান্সার।


মেরিল্যান্ড কলেজ অব মেডিসিন- এর একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, কেমোথেরাপির চেয়ে এটি হাজার গুণ ভাল।


৩. প্রতিদিন সকালে ও রাতে তিন চা চামচ অর্গানিক নারিকেল তেল খান, ক্যান্সার সেরে যাবে।


চিনি পরিহারের পর নিচের দুটি থেরাপির যেকোনো একটি গ্রহণ করুন। ক্যান্সার আপনাকে ঘায়েল করতে পারবে না। তবে অবহেলা বা উদাসীনতার কোনো অজুহাত নেই।


উল্লেখ্য, ক্যান্সার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে ডা. গুপ্তপ্রসাদ গত পাঁচ বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এই তথ্যটি প্রচার করছেন।


সেই সঙ্গে তিনি সবাইকে অনুরোধ করেছেন এই তথ্যটি শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দেয়ার জন্য।


তিনি বলেছেন, “আমি আমার কাজটি করেছি। এখন আপনি শেয়ার করে আপনার কাজটি করুন এবং আশেপাশের মানুষকে ক্যান্সার থেকে রক্ষা করুন।”


 #সূত্রঃরেডিট

 #কালেক্টেড

 সকল ফেসবুক বন্ধুরা এটা শেয়ার করুন যদি কাউর কাছে আসে আমাদের পোষ্ট সার্থক হবে এবং কাউর না কাউর জীবন অল্পতে বেছে যাবে।

Friday, October 28, 2016

Hemorrhoids Operation

সে একটা দিন ছিল বুড়িমার।


সে একটা দিন ছিল বুড়িমার। এক পুজো থেকে আর এক পুজো বারো মাসই চাপ আর চাপ। তবে লক্ষ্মীপুজোর পরে চাঁদ যত ছোট হয়ে আসত তত দম ফেলার ফুরসৎ থাকত না তাঁর। ডজন, ডজন বাজি চাই। শুধুই কালীপুজো নাকি! ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচেও তো ‘বুড়িমা’-ই গর্জে উঠত।
এই সর্বজনীন বুড়িমার আসল নাম অন্নপূর্ণা দাস। জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায়। দেশভাগে ভিটেছাড়া করে নিয়ে আসে পূর্বতন পশ্চিম দিনাজপুর জেলার ধলদিঘি সরকারি ক্যাম্পে।
উদ্বাস্তুদের পার্মানেন্ট লায়াবিলিটি ক্যাম্প থেকে হাওড়া জেলার বেলুড়ে পার্মানেন্ট ঠিকানা হওয়ার মাঝে ছিল অনেক লড়াই। হ্যাঁ, সেই গরিব ঘরের লড়াকু মেয়েই পরবর্তী জীবনে সফল ব্যবসায়ী ‘বুড়িমা।’
স্বামী সুরেন্দ্রনাথের মৃত্যু হয় পূর্ব পাকিস্তানে থাকার সময়েই। তার পরেই ওপার বাংলা ছেড়ে এই বঙ্গে আশ্রয় নেন তিন মেয়ে এক ছেলের মা অন্নপূর্ণা। তিনি  ১৯৪৮ সালে  ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে ভারতে আসেন। অর্থাভাব কিংবা সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে রিফিউজি ক্যাম্পে চলে আসার গ্লানি তাঁকে হারাতে তো পারেইনি, উল্টে আরও লড়াকু করে তোলে। ধলদিঘির বাজারে রাস্তায় উচ্ছে, ঝিঙে, পটল, মুলো বিক্রি করে সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিয়েছেন অন্নপূর্ণা।
ধলদিঘি থেকে এক সময়ে গঙ্গারামপুরে চলে যান অন্নপূর্ণা। তার আগে তিনি কিছুদিন বিড়ি বাঁধার কাজ করতেন। আর সেই কাজ করতে করতেই শুরু করে দেন বিড়ির ব্যবসা। একদিন সত্যিই স্বপ্নের মতো তাঁর নিজের বিড়ি কারখানা গড়ে ওঠে।
কিন্তু বেশিদিন সেখানেও থাকা হয়নি। মেয়ের বিয়ে দিলেন হাওড়ার বেলুড়ে। সেই সূত্রে বেলুড়ের প্যারিমোহন মুখার্জি স্ট্রিটে একটা দোকান-সহ বাড়িও কিনলেন। এবার ব্যবসাও বাড়ল। বিড়ির সঙ্গে যুক্ত হয় আলতা, সিঁদুরের ব্যবসা। শুধু কি তাই! বিশ্বকর্মা পুজোয় ঘুড়ি, দোলের রং, কালীপুজোর বাজি এমন ছোটখাটো নানা ব্যবসাই শুরু করেন। তবে তখন নিজে তৈরি করতেন না, অন্যের থেকে কিনে এনে বিক্রি করতেন।
ততদিনে তিনি রীতিমতো বুড়ি হয়ে গিয়েছেন। কিন্তু ব্যবসা করার ক্ষেত্রে তাঁর উৎসাহ তারুণ্যকে হার মানাবে। এই সময়েই নাকি তাঁর দোকানে এসে অনেকে অন্নপূর্ণাদেবীকে ‘বুড়িমা’ বলে সম্বোধন করতেন। আর তার পরেই কেমন করে যেন তিনি সবার ‘বুড়িমা’ হয়ে যেতে থাকেন।  
এক সময়ে অন্নপূর্ণাদেবী দেখলেন বাজি কিনে বিক্রির থেকে অনেক বেশি লাভ বাজি তৈরি করে বিক্রি করতে পারলে। সরকারি নিয়ম মেনে শুরু করেন বাজি কারখানা। বিভিন্ন জায়গা থেকে নিজেই খোঁজ করে নিয়ে আসেন বাজির কারিগরদের। নিজের নতুন নামেই তৈরি করলেন ব্র্যান্ড। ‘বুড়িমা’ হয়ে উঠল বাজির জগতে এক বিখ্যাত নাম। ব্যবসা বাড়তে লাগল। এক সময়ে ছেলে সুধীরনাথও যুক্ত হলেন মায়ের ব্যবসায়ে। তত দিনে তিনি নানা রকমের আতসবাজি বানানো শুরু করেছেন, কিন্তু বিখ্যাত হয়ে যায় ‘বুড়িমার চকলেট বোম।’
এর পরেও থমকে যাননি বুড়িমা মানে অন্নপূর্ণা দেবী। অন্ধ্রপ্রদেশের শিবকাশীতে একটি দেশলাই কারখানা তৈরি করেন। এই রাজ্যে ডানকুনিতে চলতে থাকে তাঁর বাজির কারখানা। ব্যবসায় আসেন নাতিরাও। collected from Newspapers. 

Monday, August 29, 2016

সিএস” হলো Cadastral Survey (CS) এর সংক্ষিপ্ত রূপ

সিএস” হলো Cadastral Survey (CS) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। একে ভারত উপমহাদেশের প্রথম জরিপ বলা হয় যা ১৮৮৮ (ভূমি মন্ত্রণালয় অুনসারে ১৮৮৭) সাল হতে ১৯৪০ সালের মধ্যে পরিচালিত হয়। এই জরিপ ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাতন্ত্র আইনের ১০ম পরিচ্ছেদে অনুসারে সিলেট ও পার্বত্য জেলা ব্যতীত সারা দেশে পরিচালিত হয়। উক্ত জরিপের মাধ্যমে জমির বিস্তারিত মৌজা নকশা (ম্যাপ) প্রস্তুত করা হয় এবং প্রত্যেক মালিকের জন্য দাগ নম্বর উল্লেখপুর্বক ভূমির বাস্তব অবস্থা, আয়তন, শ্রেণী, পরিমাণ, খাজনার পরিমাণ ইত্যাদি উল্লেখপূর্বক খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়। এ জরিপ পি-৭০ সীটে কিস্তোয়ারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
সিএস জরিপ ১৮৮৮ সালে কক্সবাজারের রামু থানা হতে আরম্ভ হয় এবং ১৯৪০ সালে দিনাজপুর জেলায় শেষ হয়। সে সময়ে সিলেট জেলা আসাম প্রদেশের অধীন থাকায় সিলেট জেলায় সিএস জরিপ হয়নি। তবে জরুরী বিবেচনায় ১৯৩৬ সালের সিলেট প্রজাস্বত্ব আইনের (Sylhet tenancy Act) আওতায় সিলেট জেলার ক্যাডাষ্ট্রাল সার্ভে ১৯৫০ সালে আরম্ভ করা হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর অধীনে ঐ জরিপ ১৯৬৩ সালে শেষ হয়।
সি.এস. জরিপে সময় প্রস্তুতকৃত খতিয়ানে জমিদারগণের নাম খতিয়ানের উপরিভাগে এবং দখলকার রায়তের নাম খতিয়ানের নিচে লেখা হত। সে সময় জমিদারগণ সরকার পক্ষে জমির মালিক ছিলেন এবং রায়তগণ প্রজা হিসেবে শুধুমাত্র ভোগ দখলকার ছিলেন।
প্রথম জরিপ এই জরিপ এবং প্রস্তুতকৃত নকশা ও খতিয়ান খুবই নিখুঁত ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে এখনো গ্রহণীয়। মামলার বা ভূমির জটিলতা নিরসনের ক্ষেত্রে এই জরিপকে বেস হিসেবে অনেক সময় গণ্য করা হয়।
এস.এ. জরিপ (State Acquisition Survey)
১৯৫০ সালে জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাশ হওয়ার পর সরকার ১৯৫৬ সালে সমগ্র পূর্ববঙ্গ প্রদেশে জমিদারী অধিগ্রহনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২/৪/১৯৫৬ তারিখে এই আইনের ৩ ধারার আওতাধীন বিজ্ঞপ্তির মূলে সরকার কর্তৃক সকল জমিদারি দখল নেয়ার পর উক্ত এ্যাক্টের ১৭ ধারা মোতাবেক যে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় তা এস এ খতিয়ান বলে পরিচিত ।
মূলত, জমিদারী ও মধ্যস্বত্ব বিলোপ করে জমিদারগণকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণ তালিকা প্রণয়ন এবং ভূমি মালিকগণকে/রায়তকে সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আনয়ন করার লক্ষ্যে সে সময় একটি সংক্ষিপ্ত জরিপ ও রেকর্ড সংশোধনী কার্যক্রম পরিচালিত হয় যা পরবর্তীতে এসএ খতিয়ান বলে পরিচিত পায় । ১৯৫৬ হতে ১৯৬২ পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়। জরিপে ভূমি মালিকের নাম ও জমির বিবরণাদি সম্বলিত হাতেলেখা রেকর্ড/খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় । সে সময় এই রেকর্ড মোট তিন কপি প্রস্তুত করা হয় যার মধ্যে একটি জেলা রেকর্ড রুমে, এক কপি তহশলি ( ইউনিয়ন ভূমি অফিস) অফিসে এবং অন্যটি সার্কেল পরিদর্শক (উপজেলা রাজস্ব) অফিসে প্রদান করা হয় । জরুরী তাগিদে জমিদারগন হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই জরিপ বা খাতিয়ান প্রণয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল।
পি.এস. জরিপ (Pakistan Survey)
এস.এ. জরিপকেই পি.এস. জরিপ বলে। ১৯৫৬ হতে ১৯৬২ পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়।
আর.এস. জরিপ ( Revisional Survey)
সি.এস. জরিপ সম্পন্ন হওয়ার সুদীর্ঘ ৫০ বছর পর এই জরিপ পরিচালিত হয়। জমির অবস্থা, প্রকৃতি, মালিক, দখলদার ইত্যাদি হালনাগাদ করার লক্ষ্যে এ জরিপ সম্পন্ন করা হয়। এস.এ. জরিপের সময় সরেজমিনে তদন্ত বা জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা হয়নি। জমিদারদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এস.এ জরিপ বা খাতিয়ান প্রস্তুত করা হয়েছিল যার কারণে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে যায়। এই ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করার জন্য সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরেজমিনে ভূমি জরিপ করার সিদ্ধান্ত নেয় যা আর.এস বা. Revisional Survey জরিপ হিসেবে পরিচিত। এই জরিপে প্রস্তুতকৃত নকশা (ম্যাপ) এবং খতিয়ান নির্ভূল হিসেবে গ্রহণীয়।
সিটি জরিপ (City Survey)
সিটি জরিপ এর আর এক নাম ঢাকা মহানগর জরিপ। আর.এস. জরিপ এর পর বাংলাদেশ সরকার কর্তিক অনুমতি ক্রমে এ জরিপ ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়। এ যবত কালে সর্বশেষ ও আধুনিক জরিপ এটি। এ জরিপের পরচা কম্পিউটার প্রিন্ট এ পকাশিত হয়।
দিয়ারা জরিপ কি?
দিয়ারা জরিপ হলো দরিয়া সম্পর্কিত জরিপ। জেগে উঠা নতুন ভূখন্ড (চর) জেলা প্রশাসকের চাহিদার ভিত্তিতে সিকস্তি পয়স্তির কারণে ভৌগলিক সীমারেখা ও স্বত্বের পরিবর্তন হলে নদী ও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় নতুন জরিপ করা হয়। এ সমস্ত জরিপে নকশা ও রেকর্ড প্রস্তুত করা হয়। এটি অতি পুরাতন জরিপ। ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ আরম্ভ হয় ১৮৮৮ সালে, পক্ষান্তরে দিয়ারা জরিপ আরম্ভ হয় ১৮৬২ সালে। দিয়ারা জরিপে সাধারন জরিপের জন্য প্রযোজ্য সকল স্তর অনুসরন করে পয়স্তি ভূমির(চর) নক্রা ও রেকর্ড প্রস্তুত করা হয় দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসারের নেতৃত্বে ৪টি (রাজশাহী, নরসিংদী, চট্রগ্রাম ও বরিশাল) বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক অফিস ও ক্যাম্পের মাধ্যমে সারাদেশের সুনির্দির্ষ্ট কিছু মৌজায় এ জরিপ কাজ পরিচালিত হয়।
Collected from newspapers. 

Sunday, August 14, 2016

এসআই পদে নির্বাচিতদের প্রশিক্ষণের তারিখ ঘোষণা

২০১৫ সালের ক্যাডেট এসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগের লক্ষ্যে নির্বাচিত প্রার্থীদের মৌলিক প্রশিক্ষণের তারিখ ঘোষণা করেছে পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স।১ বছরব্যাপি এই প্রশিক্ষণ আগামী ২৭ আগস্ট রাজশাহীর সারদার পুলিশ একাডেমিতে শুরু হবে। মৌলিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পর্ণ করা প্রার্থীদের শিক্ষানবিস উপ পরিদর্শক (এসআই) পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
রোববার পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তারিখ ঘোষণা করা হয়।

প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ১ হাজার ৪৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ প্রার্থী ১ হাজার ৩৮৯ জন এবং মহিলা প্রার্থী ৪১ জন।অফিসে আদেশে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের বহিরাগত ক্যাডেট এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ভিআর অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রশিক্ষণে প্রেরণযোগ্য বিবেচনায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় মৌলিক প্রশিক্ষণের জন্য প্রার্থীদের নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা রেঞ্জের ৫৪০ জন, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ১৪৫, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১৯২, রাজশাহী রেঞ্জের ১০৯, খুলনা রেঞ্জের ১৬৬, বরিশাল রেঞ্জে ১১৩, সিলেট রেঞ্জের ৪৭, রংপুর রেঞ্জের ১২১ জনের নাম রয়েছে।
উত্তীর্ণদের ২৬ আগস্টের মধ্যে সারদায় উপস্থিত থাকতে হবে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২২ জুন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। ওই সময় সারা দেশে ১ হাজার ৫১৭ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।(collected)

Saturday, August 13, 2016

> বাংলাদেশের শীর্ষ সম্পদশালী

২০১৩-১৪ সালের করবর্ষের সম্পদ বিবরণীর তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশের শীর্ষ সম্পদশালী ৫০ ব্যক্তির তালিকায় দেখা গেছে, ১০০ কোটি টাকার বেশি নিট সম্পদের মালিক রয়েছেন ২৭ জন। আর ৫০ কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি টাকার নিট সম্পদের মালিক রয়েছেন এমন সম্পদশালীর সংখ্যা ৪৬ জন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের তালিকায় এমন তথ্য জানা গেছে। মোট সম্পদ থেকে মোট দায় বাদ দিলে যা থাকে তাই নিট সম্পদ।
এনবিআরের তালিকায় শীর্ষ দশ সম্পদশালী
শওকত আলী চৌধুরী
প্রকাশিত নিট সম্পদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী। তার প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ ২৭৫ কোটি টাকা। ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের ডিরেক্টর এবং দেশের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অফ আর্টস ডিগ্রী সম্পন্ন করেন।
শওকত আলী চৌধুরী শিপ রিসাইক্লিং, গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ, রিয়েল এস্টেট, পাওয়ার জেনারেশন এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস, কনটেইনার টার্মিনাল এন্ড হ্যান্ডলিং, ইনস্যুরেন্স কোম্পানি, শেয়ার ব্রকারস এন্ড টি প্লান্টেসন এন্ড প্রোডাকশন ব্যবসার সাথে জড়িত। শওকত আলী চৌধুরী সার্ক চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডস্ট্রি, ভাটিয়ারি গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাব লিমিটেড, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব লিমিটেড, চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে এর আজীবন সদস্য। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চ্যম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডস্ট্রি এর ডিরেক্টর এবং চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেড এর চট্টগ্রাম সিনিয়র ক্লাব লিমিটেড ও বাংলাদেশ শিপ ব্রেকারস সমিতির সদস্য পরিচালক। এছাড়াও তিনি অন্যান্য অনেক সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত।

সাইফুল ইসলাম
দ্বিতীয় সম্পদশালী ব্যক্তির তালিকায় রয়েছেন নাভানা গ্রুপের সাইফুল ইসলাম। তার নিট সম্পদের পরিমাণ ২৭০ কোটি টাকা। সাইফুল ইসলাম নাভানা গ্রুপের চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম কামালের ছেলে। তিনি ব্যবসা বিষয়ে ভারতের নিউ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে থাকতেই তিনি তার বাবার প্রতিষ্ঠান নাভানা গ্রুপে যোগদান করেন। ২০০০ সালে নাভানা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। সেসময় থেকেই তিনি নাভানা রিয়ের এস্টেট লিমিটেড, নাভানা কন্সট্রাকশন লিমিটেড, নাভানা সিএনজি লিমিটেড পরিচালনায়ও ভূমিকা রেখে আসছেন।
সা’দাত সোবহান 
২০৫ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের সা’দাদ সোবহান। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের চার সন্তানের সবার বড় সা’দাত সোবহান। শৈশব ও কৈশরের বেশিরভাগ সময় ইউরোপে কাটানো সা’দাত সোবহান ২০০০ সালে লন্ডনের হুরন বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিজ্ঞানে গ্রাজুয়েশন শেষ করে তিনি তার বাবার প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপেই যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সাথে দারিদ্র্য দূরীকরণে বেশ কিছু সামাজিক কর্মকাণ্ডেও জড়িত আছেন। এপর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার ছিন্নমূলকে তিনি পুণর্বাসন করেছেন।
মোয়াজ্জেম হোসেন
২০০ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন হোসাফ গ্রুপের মোয়াজ্জেম হোসেন। মোয়াজ্জেম হোসেন শুধু হোসাফ গ্রুপেরই প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নন, সেই সাথে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডেরও ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ডিরেক্টর। তিনি হোসাফ মিটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং সিটিলিংক অ্যাপার্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। মোযাজ্জেম হোসেন বাংলাদেশের প্রথম উদ্যোক্তদের একজন, যিনি তার ব্যবসা দেশ এবং বিদেশে সমানতালে ছড়িয়েছেন। তিনি বিজিএমইয়ের সাবেক সভাপতি পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ এনার্জি কোম্পানিজ এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এবং প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

সালমান এফ রহমান
১৬৫ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছেন বেক্সিমকোর সালমান এফ রহমান। সালমান এফ রহমান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান। ৪৮ হাজারেরও বেশি মানুষ এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।
পৈতৃকসূত্রে পাওয়া একটি জুট মিল দিয়ে ১৯৬৬ সালে সালমান এফ রহমান তার ভাই সোহেল এফ রহমানের সাথে ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৭১ সালে সরকার ওই মিলটিকে সরকারিকরণ করলে তারা দুই ভাই বাধ্য হন অন্যদিকে ব্যবসা ঘুরিয়ে নিতে। ১৯৭২ সালে এই দুই ভাই বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি (বেক্সিমকো) প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমদিকে তারা সি-ফুড এবং হাড়চূর্ণ রপ্তানি করতেন বেলজিয়াম, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডস-এ। সেই সাথে তারা বিদেশি ওষুধ আমদানি করতেন। ১৯৭৬ সালে এই দুই ভাই বেক্সিমকো ফার্মা প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ক্রমান্বয়ে সোহেল এফ রহমান এবং সালমান এফ রহমান তাদের ব্যবসাকে সম্প্রসারিত করেন এমনভাবে, একটা পর্যায়ে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় বেক্সিমকো গ্রুপ।
আফরোজা বেগম
ষষ্ঠ স্থানে আছেন আফরোজা বেগম। যার নিট সম্পদের পরিমাণ ১৫৮ কোটি টাকা।
সাফওয়ান সোবহান
১৫৫ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে তালিকায় সপ্তম স্থানে রয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের সাফওয়ান সোবহান। সাফওয়ান সোবহান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের চার সন্তানের একজন। বর্তমানে তিনি এই গ্রুপের এডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে কর্মরত আছেন।
এছাড়া তিনি অনেক সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িত আছেন।
আকিজ পরিবার
আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আকিজ উদ্দিন। শীর্ষ সম্পদশালীর তালিকায় সবচেয়ে বেশি সদস্য রয়েছেন আকিজ পরিবারের। এ পরিবারের পাঁচ সদস্য শেখ বশিরউদ্দিন, শেখ জামিল উদ্দিন, শেখ জসিম উদ্দিন, শেখ শামীম উদ্দিন ও শেখ নাসির উদ্দিন প্রত্যেকেই ১৪০ কোটি টাকার নিট সম্পদের মালিক। তাঁরা সবাই রয়েছেন অষ্টম স্থানে।

Thursday, August 11, 2016

জন্ডিস ও কিডনির সমস্যার সমাধানে লাউ

লাউ এমন একটি সবজি যা অনেকের কাছেই প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কিশোর-তরুণরা এই সবজিটি তেমন পছন্দ করেনা। লাউ এর উপকারিতাকে উপেক্ষা করার কোন উপায় নেই। কারণ লাউয়ে প্রচুর পানি থাকার পাশাপাশি এতে ফাইবার, ভিটামিন ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান থাকে। সাধারণ লাউ এর অসাধারণ কিছু উপকারিতার কথাই জানবো আজ।
* ক্যালরি কম
কম ক্যালরির খাবার হিসেবে লাউ আদর্শ খাবার। লাউয়ে ৯৬% পানি থাকে। উচ্চমাত্রার ডায়াটারি ফাইবার থাকে লাউয়ে। ১০০ গ্রাম লাউয়ে ১৫ ক্যালরি ও ০.১ গ্রাম ফ্যাট থাকে। এতে ভিটামিন সি ও সামান্য বি ভিটামিন, আয়রন, সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম ও থাকে।
* পরিপাকে সাহায্য করে
লাউয়ে ভালো পরিমাণে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার এবং পানি থাকে। তাই লাউ পরিপাকে এবং পরিপাক সম্পর্কিত সমস্যা যেমন- কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা ও এসিডিটির সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। যাদের পাইলসের সমস্যা আছে তাদের জন্য লাউ খাওয়া উপকারী।
* শিতলিকারক
লাউয়ে ভালো পরিমাণে পানি থাকে বলে শরীর ঠান্ডা ও শান্ত করার ক্ষমতা আছে। তাই গরমের সময় লাউ খাওয়া উপকারী বিশেষ করে যারা প্রখর সূর্যতাপে কাজ করেন তাদের হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে সাহায্য করে লাউ। লাউ বিভিন্নভাবে রান্না করে খাওয়া যায়।
* ইউরিনারি সমস্যা সমাধানে
লাউ মূত্র বর্ধক হিসেবে কাজ করে। শরীরের অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে সাহায্য করে লাউ। ১ গ্লাস লাউয়ের জুসের সাথে ১ চা চামচ লেবুর রস মিসিয়ে পান করুন। ক্ষারীয় এই মিশ্রণটি এসিডিক মিশ্রণকে তরল হতে সাহায্য করে এবং মূত্রনালীর জ্বালাপোড়া কমতে সাহায্য করে।
t

*ওজন কমতেসাহায্য করে
লাউয়ে ফ্যাট ও ক্যালরির পরিমাণ খুব কম থাকে বলে লাউ ওজন কমতে সাহায্য করে। রক্তের কোলেস্টেরল কমতেও সাহায্য করে লাউ।
* অকালে চুল পাকা রোধ করে
আয়ুর্বেদে বলা হয়েছে যে, সকালে নিয়মিত তাজা লাউয়ের জুস পান করলে অকালে চুল পাকা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সাহায্য করে।
* ত্বকের জন্য উপকারী
ত্বকের ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে লাউ। এটি মুখের ত্বকের তেলের নিঃসরণের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং ব্রণের সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে। বিভিন্ন প্রকার ত্বকের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে লাউ।
* ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে
তিলের তেলের সাথে লাউয়ের জুসের মিশ্রণ ইনসমনিয়ার সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। লাউ পাতা রান্না করে খেলে মস্তিষ্ককে ঠান্ডা রাখে এবং ঘুমের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে।
* পুনরুজ্জীবিত করে
ডায়রিয়া, উচ্চমাত্রার জ্বর এবং অন্য কোন স্বাস্থ্যসমস্যার কারণে যদি শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে পানি বের হয়ে যায় তাহলে ১ গ্লাস লাউয়ের জুস পান করুন। এটি শরীরের হারিয়ে যাওয়া পানির প্রতিস্থাপনে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিসের রোগীদের অত্যধিক তৃষ্ণা কমাতেও সাহায্য করে।
এছাড়াও জন্ডিস ও কিডনির সমস্যার সমাধানেও উপকারী ভূমিকা রাখে লাউ। অসাধারণ উপকারিতা সম্বলিত এই সবজিটি বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞেরা সকালে খালি পেটে লাউয়ের জুস পান করার পরামর্শ দেন। আবার অনেকের মতে লাউ দিনের যেকোন সময় যেকোন উপায়ে রান্না করে খাওয়া উপকারী।